ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের খবর ‘ভিত্তিহীন’


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের খবর ‘ভিত্তিহীন’

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ছাড় দিয়েছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগটি জানায়, এ ধরনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা সরকারি কোনো তথ্য বা অনুমোদিত সূত্রের ভিত্তিতে নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের নতুন ছাড় দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়নি এবং কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্যও করেননি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আরও জানায়, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত কথিত ৬০ দিনের ছাড় কিংবা রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। এসব বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে সরকারি সূত্রে তথ্য দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড়ের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সরকারি বা হালনাগাদ তথ্য নেই। একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভাগ অবগত নয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে যেসব সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো তাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমোদিত তথ্য নয়। এমন সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে স্পর্শকাতর। ফলে এ ধরনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, সামান্য গুজব বা ভুল তথ্যও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার নিয়মিত সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় কোনো নতুন চুক্তি, ছাড় বা আমদানি পরিকল্পনা হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এমন সময় রাশিয়া থেকে বড় পরিসরে ডিজেল আমদানির সম্ভাবনার খবর প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্তের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় ও কূটনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির প্রশ্নটি জটিল। তাই এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে সরকারি নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।

#আর

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া জ্বালানি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের খবর ‘ভিত্তিহীন’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ছাড় দিয়েছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগটি জানায়, এ ধরনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা সরকারি কোনো তথ্য বা অনুমোদিত সূত্রের ভিত্তিতে নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের নতুন ছাড় দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়নি এবং কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্যও করেননি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আরও জানায়, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত কথিত ৬০ দিনের ছাড় কিংবা রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। এসব বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে সরকারি সূত্রে তথ্য দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড়ের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সরকারি বা হালনাগাদ তথ্য নেই। একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভাগ অবগত নয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে যেসব সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো তাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমোদিত তথ্য নয়। এমন সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে স্পর্শকাতর। ফলে এ ধরনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, সামান্য গুজব বা ভুল তথ্যও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার নিয়মিত সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় কোনো নতুন চুক্তি, ছাড় বা আমদানি পরিকল্পনা হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এমন সময় রাশিয়া থেকে বড় পরিসরে ডিজেল আমদানির সম্ভাবনার খবর প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্তের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় ও কূটনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির প্রশ্নটি জটিল। তাই এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে সরকারি নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ