ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফেলে যাওয়া ফোনের সূত্রে ধরা পড়ল ৫ সদস্যের চক্র


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ফেলে যাওয়া ফোনের সূত্রে ধরা পড়ল ৫ সদস্যের চক্র

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি চীনা নাগরিক পরিচালিত কারখানায় সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। একই ঘটনায় পৃথক অভিযানে আরও দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। ফলে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদ রানা (৪৩), নাসির পিয়াদা (৪০), হৃদয় মীর (২২), রোমান শেখ (৩৪) ও মো. মামুন (৩২)। এছাড়া পৃথক অভিযানে আটক হয়েছেন মো. জিতু (৩৩) এবং হুমায়ুন হোসেন রনি (৪০)। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর কেরানীগঞ্জে ‘ইয়াংজিয়াং প্রকল্প’ নামে পরিচিত একটি চীনা কারখানায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হামলা চালায়। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে তারা প্রথমেই নিরাপত্তারক্ষীদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পুরো কারখানা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

একটি দল বাইরে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়, আরেকটি দল ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্য একটি অংশ ভবনের নিচতলায় থাকা চীনা নাগরিককে জিম্মি করে রাখে। একই সময়ে আরেকটি দল ওপরের তলায় উঠে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করে।

ঘটনার সময় এক চীনা নাগরিক ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার পর প্রমাণ নষ্ট করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তারা। তবে পালানোর সময় এক সদস্যের অসাবধানতায় একটি মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলে পড়ে যায়, যা পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।

র‌্যাব জানায়, ওই মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি ব্র্যান্ডের দামী ঘড়ি, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সামগ্রী লুট হওয়া মালামালের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

র‌্যাব আরও জানায়, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মালামালের পূর্ণ তালিকা ও উৎস নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

অন্যদিকে পৃথক অভিযানে আটক দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের নেটওয়ার্ক এবং তাদের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যৎ অভিযানে সহায়তা করবে।

#আর

বিষয় : ডাকাতি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফেলে যাওয়া ফোনের সূত্রে ধরা পড়ল ৫ সদস্যের চক্র

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি চীনা নাগরিক পরিচালিত কারখানায় সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। একই ঘটনায় পৃথক অভিযানে আরও দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। ফলে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদ রানা (৪৩), নাসির পিয়াদা (৪০), হৃদয় মীর (২২), রোমান শেখ (৩৪) ও মো. মামুন (৩২)। এছাড়া পৃথক অভিযানে আটক হয়েছেন মো. জিতু (৩৩) এবং হুমায়ুন হোসেন রনি (৪০)। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর কেরানীগঞ্জে ‘ইয়াংজিয়াং প্রকল্প’ নামে পরিচিত একটি চীনা কারখানায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হামলা চালায়। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে তারা প্রথমেই নিরাপত্তারক্ষীদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পুরো কারখানা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

একটি দল বাইরে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়, আরেকটি দল ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্য একটি অংশ ভবনের নিচতলায় থাকা চীনা নাগরিককে জিম্মি করে রাখে। একই সময়ে আরেকটি দল ওপরের তলায় উঠে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করে।

ঘটনার সময় এক চীনা নাগরিক ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার পর প্রমাণ নষ্ট করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তারা। তবে পালানোর সময় এক সদস্যের অসাবধানতায় একটি মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলে পড়ে যায়, যা পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।

র‌্যাব জানায়, ওই মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি ব্র্যান্ডের দামী ঘড়ি, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সামগ্রী লুট হওয়া মালামালের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

র‌্যাব আরও জানায়, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মালামালের পূর্ণ তালিকা ও উৎস নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

অন্যদিকে পৃথক অভিযানে আটক দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের নেটওয়ার্ক এবং তাদের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যৎ অভিযানে সহায়তা করবে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ