ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফাইল ‘গায়েবের’ অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মচারী পুলিশের হাতে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ফাইল ‘গায়েবের’ অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মচারী পুলিশের হাতে

রিট পিটিশনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে মো. ইমরান হোসেন নামের ওই কর্মচারীকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট সংক্রান্ত ফাইল যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন না করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত একটি রিটের ফাইল সরবরাহ না হওয়ায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি। এতে সংশ্লিষ্ট কোর্টে দায়িত্বরত আইন কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন।

এরপর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ফাইল গ্রহণকারী, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট ডিএজি-র সঙ্গে আলোচনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ফাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ইমরান হোসেন কোনো প্রলোভন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি গোপন বা সরবরাহে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারেন, যার ফলে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টিকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনায় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইমরান হোসেনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, ফৌজদারি মামলাও দায়েরের সুপারিশ করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত কর্মচারীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও ফাইল সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

#আর

বিষয় : অ্যাটর্নি জেনারেল

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফাইল ‘গায়েবের’ অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মচারী পুলিশের হাতে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রিট পিটিশনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে মো. ইমরান হোসেন নামের ওই কর্মচারীকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট সংক্রান্ত ফাইল যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন না করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত একটি রিটের ফাইল সরবরাহ না হওয়ায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি। এতে সংশ্লিষ্ট কোর্টে দায়িত্বরত আইন কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন।

এরপর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ফাইল গ্রহণকারী, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট ডিএজি-র সঙ্গে আলোচনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ফাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ইমরান হোসেন কোনো প্রলোভন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি গোপন বা সরবরাহে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারেন, যার ফলে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টিকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনায় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইমরান হোসেনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, ফৌজদারি মামলাও দায়েরের সুপারিশ করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত কর্মচারীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও ফাইল সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ