দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রশাসনিক ও কারিগরি বাধা দূর হলো।
বৃহস্পতিবার প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন কেন্দ্রটির বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, জ্বালানি লোডিং এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল থেকে রূপপুর প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং বা পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১৪ মার্চ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এটি দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে এবং এর মাধ্যমে উৎপাদনের দিকে আনুষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন সম্পন্ন না হওয়ায় ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সে সময় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স মেলায় সেই জটিলতা কেটে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় উৎপাদন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা কাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সিস্টেম সমন্বয় পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হলে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথ সুগম হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে এবং দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় সহায়তা দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে গ্যাস, কয়লা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর একটি। কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে এখন প্রকল্পটি বাস্তব উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সফলভাবে উৎপাদন শুরু হলে দেশের শিল্প, কৃষি, নগরায়ণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#আরএ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রশাসনিক ও কারিগরি বাধা দূর হলো।
বৃহস্পতিবার প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন কেন্দ্রটির বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, জ্বালানি লোডিং এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল থেকে রূপপুর প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং বা পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১৪ মার্চ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এটি দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে এবং এর মাধ্যমে উৎপাদনের দিকে আনুষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন সম্পন্ন না হওয়ায় ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সে সময় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স মেলায় সেই জটিলতা কেটে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় উৎপাদন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা কাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সিস্টেম সমন্বয় পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হলে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথ সুগম হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে এবং দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় সহায়তা দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে গ্যাস, কয়লা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর একটি। কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে এখন প্রকল্পটি বাস্তব উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সফলভাবে উৎপাদন শুরু হলে দেশের শিল্প, কৃষি, নগরায়ণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন