ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলার জব্দ পাথর লুট: অভিযোগের তীর ‘মাদক সম্রাট’ সোহেল


ইসমাইল খান নিয়াজ
ইসমাইল খান নিয়াজ
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলার জব্দ পাথর লুট: অভিযোগের তীর ‘মাদক সম্রাট’ সোহেল
ছবি : শাহ আরেফিন টিলার জব্দ পাথর লুট ও মাদক সম্রাট সোহেল

 সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় টাস্কফোর্সের অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পাথর লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এস. কে. সোহেলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে এই লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট পাথর রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও জনমনে বাড়ছে সন্দেহ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ এপ্রিল। ওইদিন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে শাহ আরেফিন টিলায় একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৯৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট। অভিযান শেষে এসব পাথর সংরক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। শুক্রবার গভীর রাতে শুরু হয় পাথর লুটের ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এস. কে. সোহেল তার সহযোগীদের নিয়ে ট্রাকযোগে জব্দকৃত পাথরের একটি বড় অংশ সরিয়ে ফেলেন এবং তা পরে বিক্রিও করে দেন। সরকারি সম্পদ এভাবে প্রকাশ্যে লুণ্ঠনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী বলেন, তিনি পাথর লুটের খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যানের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিন মিয়া। তিনি জানান, জব্দকৃত পাথরগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূর মিয়া বলেন, পাথরগুলো তাদের জিম্মায় ছিল না; ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। ফলে চুরি বা লুটের দায়ভার তাদের নয় বলে তিনি দাবি করেন। পুলিশের এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ পুরো অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরই ছিল।

প্রশাসনের বিভিন্ন পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে- প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদ কীভাবে এত সহজে লুট হয়ে গেল? এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সে নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলার জব্দ পাথর লুট: অভিযোগের তীর ‘মাদক সম্রাট’ সোহেল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

 সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় টাস্কফোর্সের অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পাথর লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এস. কে. সোহেলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে এই লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট পাথর রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও জনমনে বাড়ছে সন্দেহ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ এপ্রিল। ওইদিন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে শাহ আরেফিন টিলায় একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৯৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট। অভিযান শেষে এসব পাথর সংরক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। শুক্রবার গভীর রাতে শুরু হয় পাথর লুটের ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এস. কে. সোহেল তার সহযোগীদের নিয়ে ট্রাকযোগে জব্দকৃত পাথরের একটি বড় অংশ সরিয়ে ফেলেন এবং তা পরে বিক্রিও করে দেন। সরকারি সম্পদ এভাবে প্রকাশ্যে লুণ্ঠনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী বলেন, তিনি পাথর লুটের খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যানের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিন মিয়া। তিনি জানান, জব্দকৃত পাথরগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূর মিয়া বলেন, পাথরগুলো তাদের জিম্মায় ছিল না; ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। ফলে চুরি বা লুটের দায়ভার তাদের নয় বলে তিনি দাবি করেন। পুলিশের এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ পুরো অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদের ওপরই ছিল।

প্রশাসনের বিভিন্ন পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে- প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদ কীভাবে এত সহজে লুট হয়ে গেল? এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সে নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ