২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই রেইড) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানাতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-এর ওপর চাপ বাড়ছে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিদেশি দর্শক ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা সংস্থার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো টুর্নামেন্ট চলাকালে দেশজুড়ে আইসিই অভিযান সীমিত বা স্থগিত রাখা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে সরাসরি অনুরোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এমনকি বিশ্বকাপ চলাকালে সম্পূর্ণ অভিযান স্থগিত রাখার জন্য একটি ‘ফুল মরাটোরিয়াম’ প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে। আগামী ১১ জুন টুর্নামেন্ট শুরুর কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং ব্যাপক ডিপোর্টেশন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিদেশি দর্শক ও ভক্তরা ম্যাচ দেখতে গিয়ে ইমিগ্রেশন চেক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়তে পারেন।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে আইসিই ও অন্যান্য অভিবাসন সংস্থা সক্রিয় থাকতে পারে।
আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স বলেছেন, বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে অভিযান স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দেননি।
দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপ চলাকালেও কিছু ম্যাচে অভিবাসন ও কাস্টমস সংস্থার উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও বড় পরিসরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফিফা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো অতীতে ট্রাম্পের বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন এবং তাকে ‘পিস প্রাইজ’ প্রদান করেছিলেন, যা সংস্থাটির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন মূল প্রশ্ন—টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অভিবাসন অভিযান কতটা শিথিল করা হবে, এবং ফিফা কতটা রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারবে।
বিষয় : ২০২৬ বিশ্বকাপ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই রেইড) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানাতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-এর ওপর চাপ বাড়ছে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিদেশি দর্শক ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা সংস্থার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো টুর্নামেন্ট চলাকালে দেশজুড়ে আইসিই অভিযান সীমিত বা স্থগিত রাখা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে সরাসরি অনুরোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এমনকি বিশ্বকাপ চলাকালে সম্পূর্ণ অভিযান স্থগিত রাখার জন্য একটি ‘ফুল মরাটোরিয়াম’ প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে। আগামী ১১ জুন টুর্নামেন্ট শুরুর কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং ব্যাপক ডিপোর্টেশন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিদেশি দর্শক ও ভক্তরা ম্যাচ দেখতে গিয়ে ইমিগ্রেশন চেক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়তে পারেন।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে আইসিই ও অন্যান্য অভিবাসন সংস্থা সক্রিয় থাকতে পারে।
আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স বলেছেন, বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে অভিযান স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দেননি।
দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপ চলাকালেও কিছু ম্যাচে অভিবাসন ও কাস্টমস সংস্থার উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও বড় পরিসরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফিফা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো অতীতে ট্রাম্পের বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন এবং তাকে ‘পিস প্রাইজ’ প্রদান করেছিলেন, যা সংস্থাটির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন মূল প্রশ্ন—টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অভিবাসন অভিযান কতটা শিথিল করা হবে, এবং ফিফা কতটা রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন