যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিজেদের বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রদান, বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতকরণ কিংবা দ্রুত সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এসব প্রতারক। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারকরা ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে। তারা দাবি করছে, নতুন একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হয়েছে, যা গ্রহণ করলে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, কনস্যুলার সেবা কিংবা ভ্রমণ সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি ফোন নম্বর শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। নম্বর দুটি হলো +44 7878 709995 এবং +44 7418 352834। এসব নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার বা হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সেবা, কর্মসূচি বা পরিচয়পত্র চালু করা হলে তা শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ কিংবা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে কল করে অর্থ দাবি, গোপন তথ্য চাওয়া বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া কখনোই সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের আবেগ, দ্রুত সেবা পাওয়ার আগ্রহ এবং সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সীমিত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা এমন ফাঁদ পাতে। বিশেষ করে নতুন কাগজপত্র, পরিচয়পত্র, বৈধতা নবায়ন কিংবা দেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধার কথা বলে অনেককে বিভ্রান্ত করা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের জন্য কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, কোনো ফোন কল, মেসেজ বা ই-মেইলে আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে তাৎক্ষণিক সাড়া না দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে আসা সরকারি পরিচয়ের দাবি বিশ্বাস করা যাবে না। তৃতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক তথ্য, ওটিপি বা পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। চতুর্থত, সন্দেহজনক কল বা বার্তা পেলে দ্রুত হাইকমিশন কিংবা স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। ফলে শুধু সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, কমিউনিটির ভেতরে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক প্রবাসী, নতুন অভিবাসী এবং ইংরেজিতে কম দক্ষ ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হাইকমিশন কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো সরকারি সেবা নিতে হলে কেবল অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার এবং যাচাইকৃত সূত্র ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
#আরএ
বিষয় : প্রবাসী

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিজেদের বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রদান, বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতকরণ কিংবা দ্রুত সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এসব প্রতারক। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারকরা ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে। তারা দাবি করছে, নতুন একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হয়েছে, যা গ্রহণ করলে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, কনস্যুলার সেবা কিংবা ভ্রমণ সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি ফোন নম্বর শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। নম্বর দুটি হলো +44 7878 709995 এবং +44 7418 352834। এসব নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার বা হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সেবা, কর্মসূচি বা পরিচয়পত্র চালু করা হলে তা শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ কিংবা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে কল করে অর্থ দাবি, গোপন তথ্য চাওয়া বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া কখনোই সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের আবেগ, দ্রুত সেবা পাওয়ার আগ্রহ এবং সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সীমিত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা এমন ফাঁদ পাতে। বিশেষ করে নতুন কাগজপত্র, পরিচয়পত্র, বৈধতা নবায়ন কিংবা দেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধার কথা বলে অনেককে বিভ্রান্ত করা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের জন্য কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, কোনো ফোন কল, মেসেজ বা ই-মেইলে আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে তাৎক্ষণিক সাড়া না দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে আসা সরকারি পরিচয়ের দাবি বিশ্বাস করা যাবে না। তৃতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক তথ্য, ওটিপি বা পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। চতুর্থত, সন্দেহজনক কল বা বার্তা পেলে দ্রুত হাইকমিশন কিংবা স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। ফলে শুধু সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, কমিউনিটির ভেতরে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক প্রবাসী, নতুন অভিবাসী এবং ইংরেজিতে কম দক্ষ ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হাইকমিশন কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো সরকারি সেবা নিতে হলে কেবল অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার এবং যাচাইকৃত সূত্র ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন