ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যেভাবে ঐতিহ্য ধারণ করেছে, তা প্রশংসনীয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ যেভাবে ঐতিহ্য ধারণ করেছে, তা প্রশংসনীয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবকে যেভাবে ধারণ করে রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐক্য, উৎসবমুখরতা এবং ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, একটি জাতি তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যত বেশি ধারণ করে, তত বেশি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ সেই জায়গায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

এর আগে বিকেল ৪টা থেকেই গুলশান সোসাইটি লেক পার্ক এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সেখানে আয়োজন করা হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা, চিত্রপ্রদর্শনী এবং পরিবারকেন্দ্রিক উৎসব আয়োজন। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দিনভর সেখানে নববর্ষের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন এবং শিল্পী ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন। প্রথমবারের মতো এ উৎসবে অংশ নিতে পেরে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সবসময়ই মূল্যবান। বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব নয়, এটি মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষ যখন নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে, তখন তা বিশ্ব সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ সেই ধরনের একটি আয়োজন, যা স্থানীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।

অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীদের অনেকেই রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহায়ক।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। চারুকলা, রমনা বটমূল, বিভিন্ন পার্ক ও খোলা প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের ঢল। ঐতিহ্যবাহী খাবার, লোকজ সামগ্রী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিল্প প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

গুলশানের এ আয়োজন ছিল তুলনামূলকভাবে পরিবারবান্ধব ও সুশৃঙ্খল, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে উৎসবটি আন্তর্জাতিক মাত্রাও পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব। এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। বিদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ সেই পরিচয়কে আরও বিশ্বমুখী করে তোলে।

#আরএ

বিষয় : বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশ যেভাবে ঐতিহ্য ধারণ করেছে, তা প্রশংসনীয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবকে যেভাবে ধারণ করে রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐক্য, উৎসবমুখরতা এবং ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, একটি জাতি তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যত বেশি ধারণ করে, তত বেশি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ সেই জায়গায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

এর আগে বিকেল ৪টা থেকেই গুলশান সোসাইটি লেক পার্ক এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সেখানে আয়োজন করা হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা, চিত্রপ্রদর্শনী এবং পরিবারকেন্দ্রিক উৎসব আয়োজন। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দিনভর সেখানে নববর্ষের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন এবং শিল্পী ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন। প্রথমবারের মতো এ উৎসবে অংশ নিতে পেরে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সবসময়ই মূল্যবান। বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব নয়, এটি মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষ যখন নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে, তখন তা বিশ্ব সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ সেই ধরনের একটি আয়োজন, যা স্থানীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।

অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীদের অনেকেই রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহায়ক।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। চারুকলা, রমনা বটমূল, বিভিন্ন পার্ক ও খোলা প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের ঢল। ঐতিহ্যবাহী খাবার, লোকজ সামগ্রী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিল্প প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

গুলশানের এ আয়োজন ছিল তুলনামূলকভাবে পরিবারবান্ধব ও সুশৃঙ্খল, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে উৎসবটি আন্তর্জাতিক মাত্রাও পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব। এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। বিদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ সেই পরিচয়কে আরও বিশ্বমুখী করে তোলে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ