ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হজ ভিসাই নিয়ে কড়াকড়ি সৌদির


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

হজ ভিসাই নিয়ে কড়াকড়ি সৌদির

পবিত্র হজ পালনে অংশ নিতে হলে এখন থেকে শুধু ‘হজ ভিসা’ বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। 

দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ মৌসুমে অন্য কোনো ধরনের ভিসা ব্যবহার করে কেউ হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না। অবৈধ প্রবেশ, অননুমোদিত বুকিং এবং প্রতারণা ঠেকাতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, হজ পালন করার জন্য সরকারিভাবে অনুমোদিত একমাত্র উপায় হলো হজ ভিসা। ভিজিট ভিসা, ট্রানজিট ভিসা, ওমরাহ ভিসা কিংবা টুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে কেউ মক্কা ও আশপাশের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এসব ভিসাধারীদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছর হজ মৌসুমে কিছু অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিকল্প বা শর্টকাট পদ্ধতিতে হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। অনেকে কম খরচে বা দ্রুত অনুমতির আশ্বাস দিয়ে ভুয়া প্যাকেজ বিক্রি করে থাকে। এতে বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের আইনগত জটিলতায়ও পড়েন। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন প্রতারণা বন্ধ করতে চায় রিয়াদ।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদেশি হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদিত হজ এজেন্সি ও সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা অনলাইন প্রতারণামূলক চ্যানেলের মাধ্যমে বুকিং করলে তা বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।

সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিক ও বৈধ প্রবাসীদের জন্য কিছু আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের হজে অংশ নিতে হলে ‘নুসুক’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন, বুকিং এবং পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। হজের অনুমতিপত্র ছাড়া তারা পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, নিয়ন্ত্রিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকে জোর দিচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজে অংশ নেওয়ায় নিরাপত্তা, পরিবহন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন হয়। সে কারণে অননুমোদিত যাত্রী প্রবেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় কিছু মানুষ ভিজিট বা ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনের চেষ্টা করেন, যা এখন আর সম্ভব হবে না। ফলে যাত্রীদের বৈধ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন, প্যাকেজ নির্বাচন এবং অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর, হজ ক্যাম্প, ইমিগ্রেশন ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

হজযাত্রীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো প্রকার অননুমোদিত অফার, কম খরচের প্রতিশ্রুতি বা শর্টকাট ব্যবস্থার প্রলোভনে না পড়ে সরকারি নিয়ম মেনে নিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত। কারণ নতুন নির্দেশনার পর সৌদি আরবের নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

#আরএ

বিষয় : হজ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


হজ ভিসাই নিয়ে কড়াকড়ি সৌদির

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পবিত্র হজ পালনে অংশ নিতে হলে এখন থেকে শুধু ‘হজ ভিসা’ বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। 

দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ মৌসুমে অন্য কোনো ধরনের ভিসা ব্যবহার করে কেউ হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না। অবৈধ প্রবেশ, অননুমোদিত বুকিং এবং প্রতারণা ঠেকাতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, হজ পালন করার জন্য সরকারিভাবে অনুমোদিত একমাত্র উপায় হলো হজ ভিসা। ভিজিট ভিসা, ট্রানজিট ভিসা, ওমরাহ ভিসা কিংবা টুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে কেউ মক্কা ও আশপাশের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এসব ভিসাধারীদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছর হজ মৌসুমে কিছু অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিকল্প বা শর্টকাট পদ্ধতিতে হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। অনেকে কম খরচে বা দ্রুত অনুমতির আশ্বাস দিয়ে ভুয়া প্যাকেজ বিক্রি করে থাকে। এতে বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের আইনগত জটিলতায়ও পড়েন। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন প্রতারণা বন্ধ করতে চায় রিয়াদ।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদেশি হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদিত হজ এজেন্সি ও সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা অনলাইন প্রতারণামূলক চ্যানেলের মাধ্যমে বুকিং করলে তা বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।

সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিক ও বৈধ প্রবাসীদের জন্য কিছু আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের হজে অংশ নিতে হলে ‘নুসুক’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন, বুকিং এবং পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। হজের অনুমতিপত্র ছাড়া তারা পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, নিয়ন্ত্রিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকে জোর দিচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজে অংশ নেওয়ায় নিরাপত্তা, পরিবহন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন হয়। সে কারণে অননুমোদিত যাত্রী প্রবেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় কিছু মানুষ ভিজিট বা ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনের চেষ্টা করেন, যা এখন আর সম্ভব হবে না। ফলে যাত্রীদের বৈধ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন, প্যাকেজ নির্বাচন এবং অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর, হজ ক্যাম্প, ইমিগ্রেশন ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

হজযাত্রীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো প্রকার অননুমোদিত অফার, কম খরচের প্রতিশ্রুতি বা শর্টকাট ব্যবস্থার প্রলোভনে না পড়ে সরকারি নিয়ম মেনে নিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত। কারণ নতুন নির্দেশনার পর সৌদি আরবের নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ