নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও চরম ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও বারবার সময় বাড়ানোর ফলে বর্তমানে ব্যয়ের পরিমাণ আরও ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, মাঠ ভরাটের ক্ষেত্রে বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের লাল মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামটির মূল উদ্দেশ্য ও ব্যবহারযোগ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বালুর বদলে মাটি ব্যবহার করার ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকবে এবং এটি খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে গ্যালারি এবং অফিস কাম ভিআইপি গ্যালারির কিছু আংশিক কাজ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ কাজই এখনো বাকি। বর্তমানে নির্মাণাধীন এলাকায় কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি নেই এবং মাঠ ভরাটের কাজও প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই এই প্রকল্পে পুরাতন রড, নিম্নমানের ইটের খোয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বালু ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও রবিউল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর দুই বছর পার হলেও অগ্রগতির হার অত্যন্ত হতাশাজনক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো দায়সারাভাবে কাজ পরিচালনা করছে।
এই বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকিউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার মিলন হোসেন প্রকল্পের সিডিউল বা বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল জানান যে, উপর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। অন্যদিকে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান জানিয়েছেন যে, মাঠ ভরাটে কোনোভাবেই মাটি ব্যবহার করার সুযোগ নেই এবং যদি এমন অনিয়ম হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে। যদিও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানিয়েছেন, এটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিজস্ব প্রকল্প হওয়ায় তার কাছে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। স্থানীয় জনগণের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির পথ বন্ধ করে সঠিক মানের উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক, অন্যথায় সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে এবং জনস্বার্থে এই প্রকল্পটি কোনো কাজেই আসবে না।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও চরম ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও বারবার সময় বাড়ানোর ফলে বর্তমানে ব্যয়ের পরিমাণ আরও ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, মাঠ ভরাটের ক্ষেত্রে বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের লাল মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামটির মূল উদ্দেশ্য ও ব্যবহারযোগ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বালুর বদলে মাটি ব্যবহার করার ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকবে এবং এটি খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে গ্যালারি এবং অফিস কাম ভিআইপি গ্যালারির কিছু আংশিক কাজ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ কাজই এখনো বাকি। বর্তমানে নির্মাণাধীন এলাকায় কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি নেই এবং মাঠ ভরাটের কাজও প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই এই প্রকল্পে পুরাতন রড, নিম্নমানের ইটের খোয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বালু ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও রবিউল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর দুই বছর পার হলেও অগ্রগতির হার অত্যন্ত হতাশাজনক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো দায়সারাভাবে কাজ পরিচালনা করছে।
এই বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকিউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্সের ম্যানেজার মিলন হোসেন প্রকল্পের সিডিউল বা বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল জানান যে, উপর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। অন্যদিকে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান জানিয়েছেন যে, মাঠ ভরাটে কোনোভাবেই মাটি ব্যবহার করার সুযোগ নেই এবং যদি এমন অনিয়ম হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে। যদিও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানিয়েছেন, এটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিজস্ব প্রকল্প হওয়ায় তার কাছে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। স্থানীয় জনগণের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির পথ বন্ধ করে সঠিক মানের উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক, অন্যথায় সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে এবং জনস্বার্থে এই প্রকল্পটি কোনো কাজেই আসবে না।

আপনার মতামত লিখুন