রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোগান্তি কমাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ নামে কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন এসব পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে পেট্রল বা অকটেন নিতে হলে আগে অ্যাপে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করতে হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ফিলিং স্টেশনে সেবা চালু করা হয়েছিল। পরে শনিবার আরও পাঁচটি স্টেশন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে রাজধানীর মোট সাতটি পাম্পে এ ব্যবস্থা চালু হলো।
বর্তমানে যেসব ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যকর হয়েছে সেগুলো হলো—তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছিল। একইসঙ্গে কিছু ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে এবং সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে নিবন্ধনের সময় দেওয়া মোটরসাইকেলের তথ্য যাচাই করা যাবে দ্রুত। একজন ব্যবহারকারী নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল নিতে পারবেন এবং একই গাড়ির নামে একাধিকবার তেল সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হবে।
ফিলিং স্টেশনে গিয়ে গ্রাহককে অ্যাপে থাকা কিউআর কোড দেখাতে হবে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ সেটি স্ক্যান করার পরই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। ডিজিটাল এন্ট্রির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে কোন পাম্পে কত তেল বিতরণ হচ্ছে, কোথায় চাহিদা বেশি, কোথায় সরবরাহ কম—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।
সরকার বলছে, এ উদ্যোগের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। একইসঙ্গে পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও অযথা অপেক্ষার সময়ও কমে আসবে।
যাদের স্মার্টফোন নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করা যাবে। প্রয়োজনে সেটি প্রিন্ট করেও ব্যবহার করা যাবে।
‘ফুয়েল পাস’ সুবিধা পেতে গ্রাহককে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্লুবুক বা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে রাজধানীর আরও পাম্পে এবং পরে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
#আরএ
বিষয় : জ্বালানি

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোগান্তি কমাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ নামে কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন এসব পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে পেট্রল বা অকটেন নিতে হলে আগে অ্যাপে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করতে হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ফিলিং স্টেশনে সেবা চালু করা হয়েছিল। পরে শনিবার আরও পাঁচটি স্টেশন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে রাজধানীর মোট সাতটি পাম্পে এ ব্যবস্থা চালু হলো।
বর্তমানে যেসব ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যকর হয়েছে সেগুলো হলো—তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছিল। একইসঙ্গে কিছু ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে এবং সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে নিবন্ধনের সময় দেওয়া মোটরসাইকেলের তথ্য যাচাই করা যাবে দ্রুত। একজন ব্যবহারকারী নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল নিতে পারবেন এবং একই গাড়ির নামে একাধিকবার তেল সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হবে।
ফিলিং স্টেশনে গিয়ে গ্রাহককে অ্যাপে থাকা কিউআর কোড দেখাতে হবে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ সেটি স্ক্যান করার পরই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। ডিজিটাল এন্ট্রির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে কোন পাম্পে কত তেল বিতরণ হচ্ছে, কোথায় চাহিদা বেশি, কোথায় সরবরাহ কম—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।
সরকার বলছে, এ উদ্যোগের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। একইসঙ্গে পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও অযথা অপেক্ষার সময়ও কমে আসবে।
যাদের স্মার্টফোন নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করা যাবে। প্রয়োজনে সেটি প্রিন্ট করেও ব্যবহার করা যাবে।
‘ফুয়েল পাস’ সুবিধা পেতে গ্রাহককে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্লুবুক বা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে রাজধানীর আরও পাম্পে এবং পরে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন