পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ২৫ নম্বর গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় সরকারি সময়সূচি লঙ্ঘন করে শনিবার দুপুর ১টার মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেন। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলমান থাকার কথা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবে ঈদের পরবর্তী ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যা ২৯ মার্চ থেকে কার্যকর রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশনা অমান্য করে গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস শেষ করে দেওয়া হয়। শনিবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টার পরই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এরপর বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। বেশিরভাগ শিক্ষকই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
ঘটনার সময় সহকারী শিক্ষক মো. মাহমুদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তিনি জানান, দুপুর ১টার পর তিনি নামাজের জন্য বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে গেছেন। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় তিনি তখনও বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “এভাবে আগেভাগে ছুটি দিলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে। সরকার যে সময় দিয়েছে সেই সময় পর্যন্ত ক্লাস না হলে পাঠ্যসূচি শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
আরেকজন অভিভাবক বলেন, নিয়ম না মানলে শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে। শিক্ষকদের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শিক্ষার শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ২৫ নম্বর গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় সরকারি সময়সূচি লঙ্ঘন করে শনিবার দুপুর ১টার মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেন। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলমান থাকার কথা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবে ঈদের পরবর্তী ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যা ২৯ মার্চ থেকে কার্যকর রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশনা অমান্য করে গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস শেষ করে দেওয়া হয়। শনিবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টার পরই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এরপর বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। বেশিরভাগ শিক্ষকই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
ঘটনার সময় সহকারী শিক্ষক মো. মাহমুদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তিনি জানান, দুপুর ১টার পর তিনি নামাজের জন্য বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে গেছেন। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় তিনি তখনও বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “এভাবে আগেভাগে ছুটি দিলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে। সরকার যে সময় দিয়েছে সেই সময় পর্যন্ত ক্লাস না হলে পাঠ্যসূচি শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
আরেকজন অভিভাবক বলেন, নিয়ম না মানলে শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে। শিক্ষকদের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শিক্ষার শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন