ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার কারণ বিগত সরকারের অনিয়ম: বাংলাফ্যাক্ট


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার কারণ বিগত সরকারের অনিয়ম: বাংলাফ্যাক্ট

দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’। 

এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই বিপুল দায় বর্তমান সরকারের আমলে তৈরি হয়নি; বরং পূর্ববর্তী সময়ের নীতিগত ব্যর্থতা ও আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক ফল এটি।

বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া অর্থের সমস্যা আগের সরকারের শাসনামল থেকেই প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়চুক্তি, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক দায় পরিশোধে অস্বচ্ছতার কারণে খাতটিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়। এর ফলে পরবর্তীতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও ঋণের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে পুরো সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুল অঙ্কের দায় অমীমাংসিত অবস্থায় থেকে যায়। বর্তমান বিএনপি সরকার সেই দায় পরিশোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো, দায় কমানো এবং ভবিষ্যতে নতুন বকেয়া সৃষ্টি ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার, গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক শক্তি এবং বর্তমান সরকারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্ট দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং নবনির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের কাজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত বাংলাফ্যাক্ট একটি পেশাদার মিডিয়া রিসার্চ ও তথ্য যাচাইকারী দল হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করে তারা জনমনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি, ভর্তুকি চাপ, অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং নীতিগত দুর্বলতা। ফলে শুধু রাজনৈতিক দায় নির্ধারণ নয়, খাতটির সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা, স্বাধীন নিরীক্ষা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে জনগণকে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

#আরএ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিদ্যুৎ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার কারণ বিগত সরকারের অনিয়ম: বাংলাফ্যাক্ট

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’। 

এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই বিপুল দায় বর্তমান সরকারের আমলে তৈরি হয়নি; বরং পূর্ববর্তী সময়ের নীতিগত ব্যর্থতা ও আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক ফল এটি।

বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া অর্থের সমস্যা আগের সরকারের শাসনামল থেকেই প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়চুক্তি, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক দায় পরিশোধে অস্বচ্ছতার কারণে খাতটিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়। এর ফলে পরবর্তীতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও ঋণের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে পুরো সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুল অঙ্কের দায় অমীমাংসিত অবস্থায় থেকে যায়। বর্তমান বিএনপি সরকার সেই দায় পরিশোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো, দায় কমানো এবং ভবিষ্যতে নতুন বকেয়া সৃষ্টি ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার, গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক শক্তি এবং বর্তমান সরকারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্ট দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং নবনির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের কাজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত বাংলাফ্যাক্ট একটি পেশাদার মিডিয়া রিসার্চ ও তথ্য যাচাইকারী দল হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করে তারা জনমনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি, ভর্তুকি চাপ, অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং নীতিগত দুর্বলতা। ফলে শুধু রাজনৈতিক দায় নির্ধারণ নয়, খাতটির সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা, স্বাধীন নিরীক্ষা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে জনগণকে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ