ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'ফজল মিয়া' হত্যার অভিযুক্ত প্রধান আসামি হারুন ও নুরই মিয়া খোঁজ নেই; আতঙ্কে ছাতক



'ফজল মিয়া' হত্যার অভিযুক্ত প্রধান আসামি হারুন ও নুরই মিয়া খোঁজ নেই; আতঙ্কে ছাতক
ছবি : 'ফজল মিয়া' হত্যার অভিযুক্ত প্রধান আসামি হারুন ও নুরই মিয়া

সুনামগঞ্জের ছাতকে সমাজসেবক ফজল মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত হারুন ও নুরই মিয়া এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোর তৎপরতা চালালেও দীর্ঘদিনের অপরাধ ইতিহাস সামনে আসায় পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাতক উপজেলার এক এলাকায় ফজল মিয়াকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় হারুন ও নুরই। ঘটনার পরপরই তারা আত্মগোপনে চলে যায়, আর তখন থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় দুই দশক ধরে হারুন ও নুরইয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকায় খুন, ডাকাতি, লুটপাট ও সহিংসতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও নানা সময়ে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

২০০১ সালে জমির আলী নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাতেও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় চুরির মালামালসহ ধরা পড়া এক সহযোগীকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে নুরই মিয়া ও তার সহযোগীরা জমির আলীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই মামলায় নুরইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাতের অভিযোগ ছিল এবং হারুনও ছিলেন অন্যতম আসামি।

এরপরও থেমে থাকেনি তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড। ২০০৫ সালের একটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ২০১১ সালে আদালত হারুন মিয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, উচ্চ আদালতে আপিল করে তিনি ওই সাজার কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে সক্ষম হন। পরে এলাকায় ফিরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন অপরাধ জগতে।

এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপওয়ে থেকে মালামাল লুটের একটি বড় চক্র গড়ে তোলে হারুন ও নুরই। বিষয়টি জানাজানি হলে যৌথ বাহিনী তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই অভিযানে তাদের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হলেও তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করেও আইনের আওতায় না আসায় হারুন ও নুরই এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত আধিপত্য কায়েম করে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। ওয়ার্ড মেম্বার ময়না মিয়া বলেন, “২০০১ সালের ঘটনার পর থেকেই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক অপরাধ করেও তারা পার পেয়ে যাওয়ায় আজ ফজল মিয়ার মতো একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হলো।”

বর্তমানে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাহিম জানান, “পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক অভিযান এখন সময়ের দাবি। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


'ফজল মিয়া' হত্যার অভিযুক্ত প্রধান আসামি হারুন ও নুরই মিয়া খোঁজ নেই; আতঙ্কে ছাতক

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের ছাতকে সমাজসেবক ফজল মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত হারুন ও নুরই মিয়া এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোর তৎপরতা চালালেও দীর্ঘদিনের অপরাধ ইতিহাস সামনে আসায় পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাতক উপজেলার এক এলাকায় ফজল মিয়াকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় হারুন ও নুরই। ঘটনার পরপরই তারা আত্মগোপনে চলে যায়, আর তখন থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় দুই দশক ধরে হারুন ও নুরইয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকায় খুন, ডাকাতি, লুটপাট ও সহিংসতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও নানা সময়ে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

২০০১ সালে জমির আলী নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাতেও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় চুরির মালামালসহ ধরা পড়া এক সহযোগীকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে নুরই মিয়া ও তার সহযোগীরা জমির আলীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই মামলায় নুরইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাতের অভিযোগ ছিল এবং হারুনও ছিলেন অন্যতম আসামি।

এরপরও থেমে থাকেনি তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড। ২০০৫ সালের একটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ২০১১ সালে আদালত হারুন মিয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, উচ্চ আদালতে আপিল করে তিনি ওই সাজার কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে সক্ষম হন। পরে এলাকায় ফিরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন অপরাধ জগতে।

এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপওয়ে থেকে মালামাল লুটের একটি বড় চক্র গড়ে তোলে হারুন ও নুরই। বিষয়টি জানাজানি হলে যৌথ বাহিনী তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই অভিযানে তাদের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হলেও তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করেও আইনের আওতায় না আসায় হারুন ও নুরই এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত আধিপত্য কায়েম করে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। ওয়ার্ড মেম্বার ময়না মিয়া বলেন, “২০০১ সালের ঘটনার পর থেকেই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক অপরাধ করেও তারা পার পেয়ে যাওয়ায় আজ ফজল মিয়ার মতো একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হলো।”

বর্তমানে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাহিম জানান, “পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক অভিযান এখন সময়ের দাবি। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ