নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ দুটি ট্যাংক লরি জব্দ এবং দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বার্মা স্ট্যান্ডে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ, মজুদ এবং উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন দুটি ট্যাংক লরি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে নারায়ণগঞ্জ-চ-০১-০০২৯ এবং পিরোজপুর-ঢ-৪১-০০৪৮ নম্বরযুক্ত লরি দুটি থেকে আনুমানিক ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে জ্বালানি তেলের বৈধতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা কোনো ধরনের বৈধ দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তেলগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই মো. জসিম (৩৮) ও মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া (৩০) নামের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ট্যাংক লরি দুটি বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “অভিযানের সময় ট্যাংক লরিগুলোর মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব জ্বালানি তেল অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মজুদ রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বার্মা স্ট্যান্ড এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জ্বালানি তেলের একটি অঘোষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রভাবশালী একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে এখানে নিয়মিতভাবে তেল মজুদ ও বেচাকেনা চলত। প্রশাসনের এই অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটও কমবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ দুটি ট্যাংক লরি জব্দ এবং দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বার্মা স্ট্যান্ডে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ, মজুদ এবং উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন দুটি ট্যাংক লরি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে নারায়ণগঞ্জ-চ-০১-০০২৯ এবং পিরোজপুর-ঢ-৪১-০০৪৮ নম্বরযুক্ত লরি দুটি থেকে আনুমানিক ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে জ্বালানি তেলের বৈধতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা কোনো ধরনের বৈধ দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তেলগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই মো. জসিম (৩৮) ও মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া (৩০) নামের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ট্যাংক লরি দুটি বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “অভিযানের সময় ট্যাংক লরিগুলোর মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব জ্বালানি তেল অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মজুদ রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বার্মা স্ট্যান্ড এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জ্বালানি তেলের একটি অঘোষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রভাবশালী একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে এখানে নিয়মিতভাবে তেল মজুদ ও বেচাকেনা চলত। প্রশাসনের এই অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটও কমবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন