সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তবর্তী শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও দখলকে কেন্দ্র করে এক প্রভাবশালী চক্রের দাপট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, জালিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাচিরের ছেলে সুয়েল ওরফে 'এস কে সোহেল' বর্তমানে ওই এলাকার পাথর সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার পাথর বাণিজ্যের একটি বড় অংশ তার নিয়ন্ত্রণে। তিনি পরিবহন ও অন্যান্য কার্যক্রমের আড়ালে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং এতে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি এই প্রভাব ধরে রেখেছেন, যার ফলে তার নিয়ন্ত্রিত পাথরবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরুৎসাহিত হতে দেখা যায়।
গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভোলারগঞ্জ এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুয়েলকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা যায়। মামলায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন মামলায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি ‘মামলা বাণিজ্য’ পরিচালনা করেন। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামিদের নাম বাদ দেওয়া বা নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ দাবি করেন, চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এছাড়া, অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, যা তাকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময় অভিযানে বাধা বা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, যৌথবাহিনীর ওপর হামলার মতো গুরুতর মামলার আসামি হয়েও সুয়েল এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, একজন চিহ্নিত আসামি প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করলেও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না এবং এর পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করছে।
সচেতন মহল মনে করছে, শাহ আরেফিন টিলার পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই ধরনের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ নীরবতাও জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তবর্তী শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও দখলকে কেন্দ্র করে এক প্রভাবশালী চক্রের দাপট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, জালিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাচিরের ছেলে সুয়েল ওরফে 'এস কে সোহেল' বর্তমানে ওই এলাকার পাথর সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার পাথর বাণিজ্যের একটি বড় অংশ তার নিয়ন্ত্রণে। তিনি পরিবহন ও অন্যান্য কার্যক্রমের আড়ালে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং এতে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি এই প্রভাব ধরে রেখেছেন, যার ফলে তার নিয়ন্ত্রিত পাথরবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরুৎসাহিত হতে দেখা যায়।
গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভোলারগঞ্জ এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুয়েলকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা যায়। মামলায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন মামলায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি ‘মামলা বাণিজ্য’ পরিচালনা করেন। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামিদের নাম বাদ দেওয়া বা নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ দাবি করেন, চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এছাড়া, অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, যা তাকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময় অভিযানে বাধা বা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, যৌথবাহিনীর ওপর হামলার মতো গুরুতর মামলার আসামি হয়েও সুয়েল এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, একজন চিহ্নিত আসামি প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করলেও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না এবং এর পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করছে।
সচেতন মহল মনে করছে, শাহ আরেফিন টিলার পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই ধরনের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ নীরবতাও জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন