পাহাড়বেষ্টিত পর্যটন জেলা বান্দরবানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই সংকটে সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দুর্গম উপজেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে বুধবার বিকেলে বান্দরবান শহরের অন্যতম প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘পাহাড়ীকা ফিলিং স্টেশন’-এ গিয়ে দেখা যায়, তেলের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল, জিপ (চাঁদের গাড়ি) ও পণ্যবাহী ট্রাক। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম। পাম্পে তেল পৌঁছানোর পরপরই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এই সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে জেলার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে। রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলায় খুচরা পর্যায়ে তেলের কোনো মজুদ নেই বললেই চলে। ফলে এসব এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে বান্দরবান সদরে ছুটে আসছেন।
থানচি থেকে আসা এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “আমাদের এলাকায় কয়েকদিন ধরে কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যান চলাচল প্রায় বন্ধ। তাই অনেক কষ্ট করে সদরে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে দেখি দীর্ঘ লাইন- তেল পাওয়া অনিশ্চিত।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকবাহী যানবাহন কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংকটের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, পরিবহন জটিলতা কিংবা চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ- এসব কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কবে নাগাদ এই জ্বালানি সংকট স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তথ্যচিত্র ও কৃতজ্ঞতা: পাহাড়ীকা ফিলিং স্টেশন, বান্দরবান।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
পাহাড়বেষ্টিত পর্যটন জেলা বান্দরবানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই সংকটে সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দুর্গম উপজেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে বুধবার বিকেলে বান্দরবান শহরের অন্যতম প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘পাহাড়ীকা ফিলিং স্টেশন’-এ গিয়ে দেখা যায়, তেলের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল, জিপ (চাঁদের গাড়ি) ও পণ্যবাহী ট্রাক। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম। পাম্পে তেল পৌঁছানোর পরপরই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এই সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে জেলার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে। রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলায় খুচরা পর্যায়ে তেলের কোনো মজুদ নেই বললেই চলে। ফলে এসব এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে বান্দরবান সদরে ছুটে আসছেন।
থানচি থেকে আসা এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “আমাদের এলাকায় কয়েকদিন ধরে কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যান চলাচল প্রায় বন্ধ। তাই অনেক কষ্ট করে সদরে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে দেখি দীর্ঘ লাইন- তেল পাওয়া অনিশ্চিত।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকবাহী যানবাহন কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংকটের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, পরিবহন জটিলতা কিংবা চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ- এসব কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কবে নাগাদ এই জ্বালানি সংকট স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তথ্যচিত্র ও কৃতজ্ঞতা: পাহাড়ীকা ফিলিং স্টেশন, বান্দরবান।

আপনার মতামত লিখুন