ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় এ গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গত ২৭ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ধলা মধ্যপাড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মাহাবুল আলম ওরফে বুলবুল ইসলামের দুই শিশু সন্তান- ৮ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন ও ৫ বছর বয়সী মিহাদ হোসেনকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুজনের নেতৃত্বে শিশু দু’টিকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাদের উপর শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, শিশুদের জোর করে ময়লাযুক্ত পানি পান করানো হয়, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর করে তুলেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। শিশুদের ওপর এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ত্রিশাল থানা পুলিশ দ্রুত বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে গাজীপুর এলাকা থেকে ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশুদের পিতা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩ (অবৈধ সমাবেশ), ৩৪২ (অবৈধভাবে আটক), ৩২৩ (আঘাত প্রদান), ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) এবং ৫০৬ (হুমকি) ধারায় রুজু করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুদের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় এ গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গত ২৭ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ধলা মধ্যপাড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মাহাবুল আলম ওরফে বুলবুল ইসলামের দুই শিশু সন্তান- ৮ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন ও ৫ বছর বয়সী মিহাদ হোসেনকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুজনের নেতৃত্বে শিশু দু’টিকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাদের উপর শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, শিশুদের জোর করে ময়লাযুক্ত পানি পান করানো হয়, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর করে তুলেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। শিশুদের ওপর এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ত্রিশাল থানা পুলিশ দ্রুত বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে গাজীপুর এলাকা থেকে ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশুদের পিতা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩ (অবৈধ সমাবেশ), ৩৪২ (অবৈধভাবে আটক), ৩২৩ (আঘাত প্রদান), ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) এবং ৫০৬ (হুমকি) ধারায় রুজু করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুদের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন