ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মোঃ মোস্তাকিম মিয়া

মোঃ মোস্তাকিম মিয়া

ত্রিশাল উপজেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ


ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা ঘিরে সকাল থেকেই পুরো উপজেলায় বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ।উপজেলার দুখুমিয়া বিদ্যানিকেতন মাঠকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এই বর্ষবরণ আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিককর্মী এবং সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও প্রতীকী উপস্থাপনায় সাজানো শোভাযাত্রাটি দুখুমিয়া বিদ্যানিকেতন মাঠ থেকে বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ। শোভাযাত্রাটি লোকজ ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে তুলে ধরে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে আয়োজন করা হয় লোকজ মেলার। মেলায় গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, নকশিকাঁথা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল স্থান পায়। পিঠা-পুলি, চিড়া-মুড়ি, মিষ্টান্নসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবারের সমাহার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি মেলাকে করে তোলে আরও প্রাণচঞ্চল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তার বক্তব্যে বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। এ উৎসব আমাদের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী। তিনি উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।ত্রিশাল উপজেলার সর্বস্তরের সম্মানিত নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। দিনব্যাপী এই উৎসব শুধু আনন্দের খোরাকই জোগায়নি, বরং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে বাঙালির শেকড়, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও সুদৃঢ়ভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ