ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশের সব মেডিকেল কলেজের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬

দেশের সব মেডিকেল কলেজের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ সোমবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হবে। মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত আজই থেকে কার্যকর হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংবাদে জানা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে শক্তি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের চাপ কমানো যায়।

সরকারের এক হাই‑লেভেল বৈঠকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ভোল্টিলিটি বাড়ছে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা মেডিকেল কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এটি শুধু মেডিকেল কলেজগুলোতে বা সহ‑সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওইদিনের জন্য বিরতিই নয়, বরং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সমন্বয় সাধনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িক বন্ধের মতো নির্দেশনা এসেছে, যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে ৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাগত সময়সূচ্যে ব্যাঘাত হিসেবে ভাবছেন, কারণ মেডিকেল শিক্ষাকে মূলত নিয়মিত অধ্যয়ন ও পরীক্ষা‑নিরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এগোতে হয়। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, শক্তি সংকটের এই পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নিরাপত্তা ও সংস্থান সংরক্ষণে, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ‑ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।

তবে ইতোমধ্যেই দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে ক্লাস পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য সময়, অনলাইন বা বিকল্প ব্যবস্থা, পঠন‑পাঠ্য কার্যক্রমের সমন্বয় ইত্যাদি নিয়ে আভ্যন্তরীণ আলোচনাও চলছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও প্রশাসনিকদের সঙ্গে বসে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং তা শিগগিরই জানানো হবে।

এদিকে, দেশব্যাপী শিক্ষাগত পরিবেশে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কারণে সাময়িক বা স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে; যেমন পূর্বে ভূমিকম্পের আতঙ্কে কিছু মেডিকেল কলেজ সাময়িক বন্ধ ছিল বা অবস্থান পরিবর্তন করেছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে একাধিক কলেজে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা হতে হয়েছে, এমন উদাহরণও আছে। এসব অভিজ্ঞতায় বর্তমান সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা ধরনের সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

চূড়ান্তভাবে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার গতিভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়াসকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডাক্তারি শিক্ষার কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দেশের সব মেডিকেল কলেজের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ সোমবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হবে। মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত আজই থেকে কার্যকর হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংবাদে জানা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে শক্তি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের চাপ কমানো যায়।

সরকারের এক হাই‑লেভেল বৈঠকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ভোল্টিলিটি বাড়ছে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা মেডিকেল কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এটি শুধু মেডিকেল কলেজগুলোতে বা সহ‑সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওইদিনের জন্য বিরতিই নয়, বরং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সমন্বয় সাধনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িক বন্ধের মতো নির্দেশনা এসেছে, যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে ৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাগত সময়সূচ্যে ব্যাঘাত হিসেবে ভাবছেন, কারণ মেডিকেল শিক্ষাকে মূলত নিয়মিত অধ্যয়ন ও পরীক্ষা‑নিরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এগোতে হয়। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, শক্তি সংকটের এই পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নিরাপত্তা ও সংস্থান সংরক্ষণে, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ‑ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।

তবে ইতোমধ্যেই দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে ক্লাস পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য সময়, অনলাইন বা বিকল্প ব্যবস্থা, পঠন‑পাঠ্য কার্যক্রমের সমন্বয় ইত্যাদি নিয়ে আভ্যন্তরীণ আলোচনাও চলছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও প্রশাসনিকদের সঙ্গে বসে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং তা শিগগিরই জানানো হবে।

এদিকে, দেশব্যাপী শিক্ষাগত পরিবেশে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কারণে সাময়িক বা স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে; যেমন পূর্বে ভূমিকম্পের আতঙ্কে কিছু মেডিকেল কলেজ সাময়িক বন্ধ ছিল বা অবস্থান পরিবর্তন করেছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে একাধিক কলেজে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা হতে হয়েছে, এমন উদাহরণও আছে। এসব অভিজ্ঞতায় বর্তমান সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা ধরনের সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

চূড়ান্তভাবে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার গতিভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়াসকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডাক্তারি শিক্ষার কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ