ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ব্যারিস্টার আরমান গুম হননি, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন দাবি আইনজীবীর


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬

ব্যারিস্টার আরমান গুম হননি, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন দাবি আইনজীবীর

​ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি, বরং তিনি দীর্ঘ আট বছর স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীকে জেরা করার সময় আজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়।

​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রবিবার এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় আসামি কর্নেল কে এম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গুমের বিষয়টি সাজানো এবং ব্যারিস্টার আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইটিতে বর্ণিত সব বিবরণী মিথ্যা। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার আরমান এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, আইনজীবীর এসব বক্তব্য সঠিক নয়।

​জেরার এক পর্যায়ে আলামত হিসেবে ব্যারিস্টার আরমানের সেই সময়ের ব্যবহৃত পোশাক সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। আইনজীবী জানতে চান যে, আরমানের ব্যবহৃত গামছা, লুঙ্গি ও টি-শার্ট কেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলো না এবং এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে কি না। জবাবে আরমান জানান, পোশাকগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তিনি দিতে পারেননি, তবে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেগুলো ধ্বংস করার অভিযোগ সত্য নয়।

​শুনানি চলাকালে আদালতে ব্যারিস্টার আরমানের গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে যে পোশাকে দেখা গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী টিটো। তিনি দাবি করেন, প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই আরমান ওই পোশাকগুলো পরে নাটকীয়তা তৈরি করেছেন। জবাবে সাক্ষী আরমান বলেন, ফুটেজটি মূল সিসিটিভি থেকে নেওয়া এবং কোনো কৃত্রিমতা এখানে নেই।

​আজকের জেরা শেষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী তাবারক হোসেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এতে আপত্তি জানালেও আদালত পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরগণ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ব্যারিস্টার আরমান গুম হননি, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন দাবি আইনজীবীর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

​ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি, বরং তিনি দীর্ঘ আট বছর স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীকে জেরা করার সময় আজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়।

​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রবিবার এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় আসামি কর্নেল কে এম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গুমের বিষয়টি সাজানো এবং ব্যারিস্টার আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইটিতে বর্ণিত সব বিবরণী মিথ্যা। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার আরমান এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, আইনজীবীর এসব বক্তব্য সঠিক নয়।

​জেরার এক পর্যায়ে আলামত হিসেবে ব্যারিস্টার আরমানের সেই সময়ের ব্যবহৃত পোশাক সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। আইনজীবী জানতে চান যে, আরমানের ব্যবহৃত গামছা, লুঙ্গি ও টি-শার্ট কেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলো না এবং এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে কি না। জবাবে আরমান জানান, পোশাকগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তিনি দিতে পারেননি, তবে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেগুলো ধ্বংস করার অভিযোগ সত্য নয়।

​শুনানি চলাকালে আদালতে ব্যারিস্টার আরমানের গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে যে পোশাকে দেখা গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী টিটো। তিনি দাবি করেন, প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই আরমান ওই পোশাকগুলো পরে নাটকীয়তা তৈরি করেছেন। জবাবে সাক্ষী আরমান বলেন, ফুটেজটি মূল সিসিটিভি থেকে নেওয়া এবং কোনো কৃত্রিমতা এখানে নেই।

​আজকের জেরা শেষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী তাবারক হোসেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এতে আপত্তি জানালেও আদালত পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরগণ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ