ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩



চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আল-আমিন (২৬) রাজধানীর তুরাগ থানার তালটেক গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ফেটালিয়া গ্রামের গাফফার মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়াকে (২২) কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাজধানীর তুরাগ থানার বাদলদি পাকুরিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের (৩৮) কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রাথুরা গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ছেলে অটোরিকশা চালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পাঁচ দিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর আমির আলীর ঘাট সংলগ্ন স্থানে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তখন মরদেহটির গলায় বেল্ট পেঁচানো ছিল এবং পেট ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। পরে পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আশিকের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত আশিকের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত সেলিম মিয়া অটোরিকশাটি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আশিককে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে অচেতন করা হয় এবং পরে নিজের পরা বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করা না যায়। ঘটনার পর সেলিম মিয়া ও আল-আমিন ছিনতাই করা অটোরিকশাটি সাইফুল ইসলামের কাছে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে পুলিশের অভিযানে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালীগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আল-আমিন (২৬) রাজধানীর তুরাগ থানার তালটেক গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ফেটালিয়া গ্রামের গাফফার মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়াকে (২২) কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাজধানীর তুরাগ থানার বাদলদি পাকুরিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের (৩৮) কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রাথুরা গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ছেলে অটোরিকশা চালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পাঁচ দিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর আমির আলীর ঘাট সংলগ্ন স্থানে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তখন মরদেহটির গলায় বেল্ট পেঁচানো ছিল এবং পেট ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। পরে পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আশিকের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত আশিকের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত সেলিম মিয়া অটোরিকশাটি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আশিককে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে অচেতন করা হয় এবং পরে নিজের পরা বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করা না যায়। ঘটনার পর সেলিম মিয়া ও আল-আমিন ছিনতাই করা অটোরিকশাটি সাইফুল ইসলামের কাছে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে পুলিশের অভিযানে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ