ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গাজীপুরে ভাইয়ের হাতে খুন শিশু রাহিম : ২৫ দিন পর শালবন থেকে লাশ উদ্ধার



গাজীপুরে ভাইয়ের হাতে খুন শিশু রাহিম : ২৫ দিন পর শালবন থেকে লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার ঘটনায় তার বড়ভাই ও এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার বায়নাকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে শালবনের গভীরে নিয়ে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজের ২৫ দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন হয়।

বুধবার গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মোঃ শরিফ উদ্দীন। তিনি বলেন, নিহত আঃ রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলাজয়দেবপুর থানা এলাকার ডগরী নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ওরফে কোহিনূরের ছেলে। রাহিম স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহতের বড়ভাই মোঃ আলামিন হোসেন (২৩) এবং একই এলাকার আশিক আহমেদ (২০)। পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাহিম নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের প্রায় ২৫ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি রিসোর্ট সংলগ্ন গভীর শালবনের ভেতর আংশিক মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও ধারণ করতে শালবনের ভেতরে গেলে দুর্গন্ধ পেয়ে অনুসন্ধান চালায় এবং লাশটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পোশাক দেখে নিহতকে শনাক্ত করেন তার বাবা। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার আলামিন ও আশিককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাহিম মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বাবার কাছে জোরাজুরি করছিল। বিষয়টি নিয়ে বড়ভাই আলামিন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে। ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাহিমকে শালবনের গভীরে নিয়ে গিয়ে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হয়। পরে স্কচটেপ খুলে দিলে রাহিম বাবাকে সব জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। একপর্যায়ে আলামিন গলাটিপে রাহিমকে হত্যা করে। পরে পাশেই গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে তার জ্যাকেট পুড়িয়ে ফেলা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয় এবং প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


গাজীপুরে ভাইয়ের হাতে খুন শিশু রাহিম : ২৫ দিন পর শালবন থেকে লাশ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

গাজীপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার ঘটনায় তার বড়ভাই ও এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার বায়নাকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে শালবনের গভীরে নিয়ে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজের ২৫ দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন হয়।

বুধবার গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মোঃ শরিফ উদ্দীন। তিনি বলেন, নিহত আঃ রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলাজয়দেবপুর থানা এলাকার ডগরী নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ওরফে কোহিনূরের ছেলে। রাহিম স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহতের বড়ভাই মোঃ আলামিন হোসেন (২৩) এবং একই এলাকার আশিক আহমেদ (২০)। পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাহিম নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের প্রায় ২৫ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি রিসোর্ট সংলগ্ন গভীর শালবনের ভেতর আংশিক মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও ধারণ করতে শালবনের ভেতরে গেলে দুর্গন্ধ পেয়ে অনুসন্ধান চালায় এবং লাশটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পোশাক দেখে নিহতকে শনাক্ত করেন তার বাবা। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার আলামিন ও আশিককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাহিম মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বাবার কাছে জোরাজুরি করছিল। বিষয়টি নিয়ে বড়ভাই আলামিন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে। ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাহিমকে শালবনের গভীরে নিয়ে গিয়ে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হয়। পরে স্কচটেপ খুলে দিলে রাহিম বাবাকে সব জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। একপর্যায়ে আলামিন গলাটিপে রাহিমকে হত্যা করে। পরে পাশেই গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে তার জ্যাকেট পুড়িয়ে ফেলা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয় এবং প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ