মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার জেরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ১৮ জন সেনার প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই রুটটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমান অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীন তাদের শোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরামকোর সরবরাহ সমর্থিত চীনের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল করপোরেশন (জেডপিসি) তাদের একটি বিশাল ইউনিট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ৮ লাখ ব্যারেল তেল শোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্টটি চলতি মার্চ মাস জুড়ে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উৎপাদন অন্তত ২০ শতাংশ কমে যাবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অপরিশোধিত তেলের জোগান কমে যাওয়ার কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
চীন তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে চীনের অন্যান্য বড় শোধনাগারগুলোও তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ জন ইরানি সেনার মৃত্যুর ঘটনা তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যদি দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না ঘটে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার জেরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ১৮ জন সেনার প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই রুটটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমান অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীন তাদের শোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরামকোর সরবরাহ সমর্থিত চীনের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল করপোরেশন (জেডপিসি) তাদের একটি বিশাল ইউনিট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ৮ লাখ ব্যারেল তেল শোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্টটি চলতি মার্চ মাস জুড়ে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উৎপাদন অন্তত ২০ শতাংশ কমে যাবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অপরিশোধিত তেলের জোগান কমে যাওয়ার কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
চীন তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে চীনের অন্যান্য বড় শোধনাগারগুলোও তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ জন ইরানি সেনার মৃত্যুর ঘটনা তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যদি দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না ঘটে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

আপনার মতামত লিখুন