মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা এবার স্পর্শ করল ইরানের তথ্য ও প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুকে। রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন (আইআরআইবি) লক্ষ্য করে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার পরিচালিত এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল ইরানের ‘প্রোপাগান্ডা মেশিনের হৃৎপিণ্ডে সরাসরি আঘাত’।
আইডিএফ তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এক পোস্টে জানিয়েছে যে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের আইআরআইবি কমপ্লেক্সে কয়েক ডজন শক্তিশালী গোলাবারুদ ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে চালানো এই হামলায় আইআরআইবি-র প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্রটি কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ-এর মতে, এই কেন্দ্রটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ‘মিথ্যা ও নিপীড়নের যন্ত্র’ হিসেবে কাজ করত। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও এই সংবাদমাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইসরায়েল।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের প্রধান পেম্যান জেবেলি জানিয়েছেন, তেহরানে তাদের সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণের একাধিক অংশে সরাসরি বোমা আঘাত হেনেছে। হামলায় স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং সম্প্রচার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক অভিযান এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবারের সেই প্রাথমিক আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫৫ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের মিডিয়া সেন্টারে এই হামলা দুই পক্ষের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মাত্রায় নিয়ে গেল।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা এবার স্পর্শ করল ইরানের তথ্য ও প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুকে। রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন (আইআরআইবি) লক্ষ্য করে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার পরিচালিত এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল ইরানের ‘প্রোপাগান্ডা মেশিনের হৃৎপিণ্ডে সরাসরি আঘাত’।
আইডিএফ তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এক পোস্টে জানিয়েছে যে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের আইআরআইবি কমপ্লেক্সে কয়েক ডজন শক্তিশালী গোলাবারুদ ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে চালানো এই হামলায় আইআরআইবি-র প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্রটি কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ-এর মতে, এই কেন্দ্রটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ‘মিথ্যা ও নিপীড়নের যন্ত্র’ হিসেবে কাজ করত। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও এই সংবাদমাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইসরায়েল।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের প্রধান পেম্যান জেবেলি জানিয়েছেন, তেহরানে তাদের সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণের একাধিক অংশে সরাসরি বোমা আঘাত হেনেছে। হামলায় স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং সম্প্রচার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক অভিযান এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবারের সেই প্রাথমিক আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫৫ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের মিডিয়া সেন্টারে এই হামলা দুই পক্ষের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মাত্রায় নিয়ে গেল।

আপনার মতামত লিখুন