ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রমজান: পাপমুক্ত ও তাকওয়াসম্পন্ন জীবনের মাস


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজান: পাপমুক্ত ও তাকওয়াসম্পন্ন জীবনের মাস

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পুণ্য অর্জনের বিশেষ সময়। এ মাসে প্রতিটি ব্যক্তি বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মনোযোগ দিয়ে রোজা, তারাবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। তবে কেবল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; রোজার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণও যথাযথ রাখা আবশ্যক।

রোজা ফরজ করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন করা। আল্লাহ বলেন:
“হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হও।” (সুরা বাকারা: ১৫৩)
তাকওয়ার অর্থ হলো সর্বদা আল্লাহর ভীতি হৃদয়ে রাখা এবং তার কাছে জবাবদিহির ভয় ধারণ করে নফরমানি থেকে বিরত থাকা।

রাসুল (সা.)-এর বাণীতেও রোজার সময় পাপ বর্জনের গুরুত্ব উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি রোজা রেখে অসত্য কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারি)

অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে:
“রোজাদার যেন দিবসে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার না করে, চিৎকার করে বাক্য বিনিময় না করে। যদি কেউ তার সঙ্গে বিবাদে জড়ায়, সে শুধু বলবে ‘আমি রোজাদার’, তাতে সে বিবাদে প্রবেশ করবে না।” (প্রাগুক্ত)
এ থেকে বোঝা যায়, রোজার দিন সংযম বজায় রাখা কতটা জরুরি, এমনকি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও।

ইবনুল কায়িম (রহ.) বলেন, “সিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো আত্মাকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করা, অভ্যাসগত প্রবৃত্তি থেকে বিচ্যুত করা এবং শক্তির ব্যবহারকে সঠিক দিকে নির্দেশ করা। ফলে ব্যক্তি তার সর্বোচ্চ সুখ ও সৌভাগ্য অনুসন্ধানে প্রস্তুত হয়।”

রোজাদারের অবশ্যই ব্যক্তিগত জীবনে ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একটিও যেন ত্যাগ না হয়, এবং সামাজিক জীবনে কারো প্রতি যেন কষ্ট বা অন্যায় না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, “সেই প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।” (মুসলিম)

এছাড়াও গিবত-পরনিন্দা, হিংসা, মিথ্যা, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ ও অন্যের সম্পদ বা সম্বল আত্মসাৎ—এই সব অন্যায় থেকে বিরত থাকা রোজার অপরিহার্য শর্ত। রমজান মাস সারা বছরের জন্য পাপমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত জীবনের প্রশিক্ষণ দেয়, যা মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন ও আল্লাহর সন্তুষ্টির যোগ্য করে তোলে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রমজান: পাপমুক্ত ও তাকওয়াসম্পন্ন জীবনের মাস

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পুণ্য অর্জনের বিশেষ সময়। এ মাসে প্রতিটি ব্যক্তি বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মনোযোগ দিয়ে রোজা, তারাবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। তবে কেবল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; রোজার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণও যথাযথ রাখা আবশ্যক।

রোজা ফরজ করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন করা। আল্লাহ বলেন:
“হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হও।” (সুরা বাকারা: ১৫৩)
তাকওয়ার অর্থ হলো সর্বদা আল্লাহর ভীতি হৃদয়ে রাখা এবং তার কাছে জবাবদিহির ভয় ধারণ করে নফরমানি থেকে বিরত থাকা।

রাসুল (সা.)-এর বাণীতেও রোজার সময় পাপ বর্জনের গুরুত্ব উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি রোজা রেখে অসত্য কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারি)

অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে:
“রোজাদার যেন দিবসে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার না করে, চিৎকার করে বাক্য বিনিময় না করে। যদি কেউ তার সঙ্গে বিবাদে জড়ায়, সে শুধু বলবে ‘আমি রোজাদার’, তাতে সে বিবাদে প্রবেশ করবে না।” (প্রাগুক্ত)
এ থেকে বোঝা যায়, রোজার দিন সংযম বজায় রাখা কতটা জরুরি, এমনকি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও।

ইবনুল কায়িম (রহ.) বলেন, “সিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো আত্মাকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করা, অভ্যাসগত প্রবৃত্তি থেকে বিচ্যুত করা এবং শক্তির ব্যবহারকে সঠিক দিকে নির্দেশ করা। ফলে ব্যক্তি তার সর্বোচ্চ সুখ ও সৌভাগ্য অনুসন্ধানে প্রস্তুত হয়।”

রোজাদারের অবশ্যই ব্যক্তিগত জীবনে ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একটিও যেন ত্যাগ না হয়, এবং সামাজিক জীবনে কারো প্রতি যেন কষ্ট বা অন্যায় না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, “সেই প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।” (মুসলিম)

এছাড়াও গিবত-পরনিন্দা, হিংসা, মিথ্যা, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ ও অন্যের সম্পদ বা সম্বল আত্মসাৎ—এই সব অন্যায় থেকে বিরত থাকা রোজার অপরিহার্য শর্ত। রমজান মাস সারা বছরের জন্য পাপমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত জীবনের প্রশিক্ষণ দেয়, যা মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন ও আল্লাহর সন্তুষ্টির যোগ্য করে তোলে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ