পাবনা শহরের টার্মিনাল এলাকার লস্করপুরে অবস্থিত হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে সুমাইয়া (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া পাবনা শহরের পাটকিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী পেশায় রিকশাচালক। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে ২০২১ সালে তাকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান তিনি। পাঁচ বছর পর সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই ফিরে আসে মেয়ের নিথর দেহ।
নিহতের বাবার দাবি, শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে আত্মহত্যার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। বাবার ভাষ্য, মেয়ের গলায় ফাঁসের কোনো দাগ ছিল না, শরীর ঠান্ডা ছিল এবং মুখ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সুপার রুস্তম আলী তাকে বুঝিয়ে একটি নির্দাবী সমঝোতায় স্বাক্ষর করান। তার দাবি, ঘটনাটি হত্যা হলেও আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
নিহতের মা নাজেরা খাতুন অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে নিয়ে নানা অপবাদ ছড়াতে শুরু করেছে, যা আগে কখনো শোনা যায়নি। তার মতে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই এসব করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গেলে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সুপার রুস্তম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পরে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দুলার হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন সুমাইয়ার পরিবার।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাবনা শহরের টার্মিনাল এলাকার লস্করপুরে অবস্থিত হযরত মরিয়ম (আঃ) মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা থেকে সুমাইয়া (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া পাবনা শহরের পাটকিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী পেশায় রিকশাচালক। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে ২০২১ সালে তাকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান তিনি। পাঁচ বছর পর সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই ফিরে আসে মেয়ের নিথর দেহ।
নিহতের বাবার দাবি, শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে আত্মহত্যার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। বাবার ভাষ্য, মেয়ের গলায় ফাঁসের কোনো দাগ ছিল না, শরীর ঠান্ডা ছিল এবং মুখ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সুপার রুস্তম আলী তাকে বুঝিয়ে একটি নির্দাবী সমঝোতায় স্বাক্ষর করান। তার দাবি, ঘটনাটি হত্যা হলেও আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
নিহতের মা নাজেরা খাতুন অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে নিয়ে নানা অপবাদ ছড়াতে শুরু করেছে, যা আগে কখনো শোনা যায়নি। তার মতে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই এসব করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গেলে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সুপার রুস্তম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পরে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দুলার হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন সুমাইয়ার পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন