পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা যাকাত দিতে প্রস্তুতি নেন। তবে বর্তমানে স্বর্ণ এবং রূপার বাজার মূল্যের বড় পার্থক্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, নগদ টাকার যাকাত কোন নিসাবে করা উচিত। ইসলামী শায়েখরা সাধারণত বলেন যে যাকাতের হিসাব করার সময় যে নিসাবটি ব্যবহার করলে সম্পদের মূল্য বেশি হবে, সেটিই গ্রহণ করা নিরাপদ। অর্থাৎ স্বর্ণ‑নির্ধারিত নিসাব বড় হলে এবং রূপা‑নির্ধারিত নিসাব কম হলে, রূপা‑ভিত্তিক নিসাব ব্যবহার করলে দরিদ্রদের জন্য বেশি সহায়ক হয়।
ইসলামিক ফিকহ অনুযায়ী স্বর্ণ নিসাব প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম এবং রূপা নিসাব প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম। নগদ টাকা বা অন্যান্য সম্পদে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য এই নিসাবের যেকোনো একটির সমমূল্যের টাকা থাকলেই যথেষ্ট। যখন স্বর্ণ এবং রূপার বাজার মূল্য ভিন্ন থাকে, তখন রূপা‑ভিত্তিক নিসাব ব্যবহার করলে কম সম্পদেই যাকাত দেওয়ার সুযোগ থাকে, যা দরিদ্রদের সাহায্যে বেশি কার্যকর।
নগদ টাকা এবং অন্যান্য সম্পদে যাকাত হিসাব করার ধাপগুলো হলো: প্রথমে হাতে ও ব্যাংকে থাকা সব টাকা একত্র করা, এরপর ঋণ বা দায় বাদ দিয়ে বাকি টাকা গণনা করা। তারপর স্বর্ণ বা রূপার নিসাবের সমমূল্যের মোট টাকা নির্ধারণ করে সেই ২.৫% হিসাব অনুযায়ী যাকাত প্রদান করতে হবে। এছাড়া স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার লাভ, বিনিয়োগ এবং সঞ্চয় সবকিছু মিলিয়ে যদি নিসাব পূরণ হয়, সেগুলোর ওপরও যাকাত ফরজ।
স্থানীয় ধর্মীয় সংস্থা ও মসজিদগুলো প্রতি বছরের জন্য নিসাব নির্ধারণ করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে নগদ‑যুক্ত নিসাব নির্ধারণ করা হয় স্থানীয় বাজারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। যদিও স্বর্ণ‑বেইজড নিসাব গ্রহণ করা যায়, তবে রূপা‑বেইজড নিসাব ব্যবহার করা সাধারণত বেশি ফজিলতপূর্ণ এবং দরিদ্রদের জন্য সহায়ক।
নগদ টাকার জাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রূপা দুইটি নিসাবই গ্রহণযোগ্য। স্বর্ণের মানদণ্ড প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম এবং রূপার মানদণ্ড প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম। যাকাতের হার সব ক্ষেত্রে ২.৫%। নগদ, স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার লাভ এবং বিনিয়োগ সব ধরনের জাকাতযোগ্য সম্পদ মিলিয়ে এই নিসাব অনুযায়ী যাকাত হিসাব করা যায়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা যাকাত দিতে প্রস্তুতি নেন। তবে বর্তমানে স্বর্ণ এবং রূপার বাজার মূল্যের বড় পার্থক্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, নগদ টাকার যাকাত কোন নিসাবে করা উচিত। ইসলামী শায়েখরা সাধারণত বলেন যে যাকাতের হিসাব করার সময় যে নিসাবটি ব্যবহার করলে সম্পদের মূল্য বেশি হবে, সেটিই গ্রহণ করা নিরাপদ। অর্থাৎ স্বর্ণ‑নির্ধারিত নিসাব বড় হলে এবং রূপা‑নির্ধারিত নিসাব কম হলে, রূপা‑ভিত্তিক নিসাব ব্যবহার করলে দরিদ্রদের জন্য বেশি সহায়ক হয়।
ইসলামিক ফিকহ অনুযায়ী স্বর্ণ নিসাব প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম এবং রূপা নিসাব প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম। নগদ টাকা বা অন্যান্য সম্পদে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য এই নিসাবের যেকোনো একটির সমমূল্যের টাকা থাকলেই যথেষ্ট। যখন স্বর্ণ এবং রূপার বাজার মূল্য ভিন্ন থাকে, তখন রূপা‑ভিত্তিক নিসাব ব্যবহার করলে কম সম্পদেই যাকাত দেওয়ার সুযোগ থাকে, যা দরিদ্রদের সাহায্যে বেশি কার্যকর।
নগদ টাকা এবং অন্যান্য সম্পদে যাকাত হিসাব করার ধাপগুলো হলো: প্রথমে হাতে ও ব্যাংকে থাকা সব টাকা একত্র করা, এরপর ঋণ বা দায় বাদ দিয়ে বাকি টাকা গণনা করা। তারপর স্বর্ণ বা রূপার নিসাবের সমমূল্যের মোট টাকা নির্ধারণ করে সেই ২.৫% হিসাব অনুযায়ী যাকাত প্রদান করতে হবে। এছাড়া স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার লাভ, বিনিয়োগ এবং সঞ্চয় সবকিছু মিলিয়ে যদি নিসাব পূরণ হয়, সেগুলোর ওপরও যাকাত ফরজ।
স্থানীয় ধর্মীয় সংস্থা ও মসজিদগুলো প্রতি বছরের জন্য নিসাব নির্ধারণ করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে নগদ‑যুক্ত নিসাব নির্ধারণ করা হয় স্থানীয় বাজারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। যদিও স্বর্ণ‑বেইজড নিসাব গ্রহণ করা যায়, তবে রূপা‑বেইজড নিসাব ব্যবহার করা সাধারণত বেশি ফজিলতপূর্ণ এবং দরিদ্রদের জন্য সহায়ক।
নগদ টাকার জাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রূপা দুইটি নিসাবই গ্রহণযোগ্য। স্বর্ণের মানদণ্ড প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম এবং রূপার মানদণ্ড প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম। যাকাতের হার সব ক্ষেত্রে ২.৫%। নগদ, স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার লাভ এবং বিনিয়োগ সব ধরনের জাকাতযোগ্য সম্পদ মিলিয়ে এই নিসাব অনুযায়ী যাকাত হিসাব করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন