ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের মেধা নয় বরং ঘাটতি রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের: ড. এহছানুল হক মিলন


পুলক শেখ
পুলক শেখ অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষার্থীদের মেধা নয় বরং ঘাটতি রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের: ড. এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন | গ্রাফিক্স: নববাণী

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধার কোনো ঘাটতি নেই বরং রাষ্ট্র, মন্ত্রণালয় ও অভিভাবকদের সঠিক নির্দেশনার অভাবই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

চাঁদপুর ১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য অতীতেও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের জন্য সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছিলেন। হেলিকপ্টারে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদারকির কারণে তাকে ‘নকলের যম’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শিক্ষাঙ্গনের শীর্ষ দায়িত্বে ফেরায় তাকে নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. মিলন তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আসন্ন ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এখন তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া কারিকুলাম বাস্তবায়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কাজের গতি বাড়াতে তিনি ইতোমধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

শিক্ষানীতি পরিবর্তনের বিষয়ে ড. মিলন একটি ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান শিক্ষানীতিকে কেবল পরিবর্তন না বলে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একে ‘রিভিউ’ বা ‘আপগ্রেড’ করা প্রয়োজন। তার মতে, রিফর্ম বা সংস্কারই হলো সময়ের দাবি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বর্তমান শিক্ষানীতিকে নতুন করে সাজানোর বিকল্প নেই।

দেশের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারাই আগামীর পরিবর্তনের মূল শক্তি। তাদের মস্তিষ্ক নতুন কিছু শেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। তবে তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তদারকির অভাব এবং বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে পিছিয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ড. মিলন বলেন, দেশে প্রচলিত পিএইচডি ডিগ্রিগুলোর যথাযথ একাডেমিক ভিত্তি আছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে এই ডিগ্রির অপব্যবহার হচ্ছে যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। এই সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ডিগ্রিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সততা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমই আমার মূল শক্তি। আমি ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা হলো, জীবনে সাফল্যের জন্য কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এমন একজন অভিজ্ঞ ও কঠোর ব্যক্তিত্বের আগমনে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বাধীন এই দুই মন্ত্রণালয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষার্থীদের মেধা নয় বরং ঘাটতি রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের: ড. এহছানুল হক মিলন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধার কোনো ঘাটতি নেই বরং রাষ্ট্র, মন্ত্রণালয় ও অভিভাবকদের সঠিক নির্দেশনার অভাবই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

চাঁদপুর ১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য অতীতেও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের জন্য সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছিলেন। হেলিকপ্টারে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদারকির কারণে তাকে ‘নকলের যম’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শিক্ষাঙ্গনের শীর্ষ দায়িত্বে ফেরায় তাকে নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. মিলন তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আসন্ন ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এখন তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া কারিকুলাম বাস্তবায়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কাজের গতি বাড়াতে তিনি ইতোমধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

শিক্ষানীতি পরিবর্তনের বিষয়ে ড. মিলন একটি ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান শিক্ষানীতিকে কেবল পরিবর্তন না বলে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একে ‘রিভিউ’ বা ‘আপগ্রেড’ করা প্রয়োজন। তার মতে, রিফর্ম বা সংস্কারই হলো সময়ের দাবি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বর্তমান শিক্ষানীতিকে নতুন করে সাজানোর বিকল্প নেই।

দেশের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারাই আগামীর পরিবর্তনের মূল শক্তি। তাদের মস্তিষ্ক নতুন কিছু শেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। তবে তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তদারকির অভাব এবং বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে পিছিয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ড. মিলন বলেন, দেশে প্রচলিত পিএইচডি ডিগ্রিগুলোর যথাযথ একাডেমিক ভিত্তি আছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে এই ডিগ্রির অপব্যবহার হচ্ছে যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। এই সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ডিগ্রিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সততা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমই আমার মূল শক্তি। আমি ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা হলো, জীবনে সাফল্যের জন্য কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এমন একজন অভিজ্ঞ ও কঠোর ব্যক্তিত্বের আগমনে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বাধীন এই দুই মন্ত্রণালয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ