ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ষষ্ঠ তারাবিতে শয়তানের ধোঁকা ও নবীদের কাহিনির শিক্ষা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ষষ্ঠ তারাবিতে শয়তানের ধোঁকা ও নবীদের কাহিনির শিক্ষা

আজ ষষ্ঠ তারাবিতে সূরা আরাফের ১২ থেকে ২০৬ নম্বর আয়াত এবং সূরা আনফালের ১ থেকে ৪০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। এতে কোরআনের অষ্টম পারার শেষাংশ ও নবম পারার প্রথমাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। আজকের তারাবির আয়াতগুলোতে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের গুরুত্ব, শয়তানের প্রতারণা, নবীদের কাহিনি এবং জিহাদের বিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা আরাফ মক্কায় অবতীর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যেখানে ইসলামের মৌলিক আকিদা—আল্লাহর একত্ব, নবুয়ত ও পরকালের বিশ্বাস—বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সূরার শুরুতে কোরআনের মহিমা আলোচনা করা হয় এবং আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি এবং ইবলিসের অবাধ্যতার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে শয়তানের মানুষের সঙ্গে চিরস্থায়ী শত্রুতার বিষয়টি উল্লেখ করে ঈমানদারদের সতর্ক করা হয়েছে।

এই সূরার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে চারবার “হে আদম সন্তান” বলে সম্বোধন করেছেন। এর মধ্যে তিনবারই পোশাক ও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, শয়তানের অন্যতম লক্ষ্য মানুষকে লজ্জাশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথে পরিচালিত করা।

সূরায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুশরিকরা কাবা শরিফে উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করত এবং এটিকে পূর্বপুরুষদের অনুসরণ বলে যুক্তি দিত। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কখনো বেহায়াপনার নির্দেশ দেন না। সূরায় জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের কথোপকথন এবং ‘আরাফবাসী’ নামের একটি তৃতীয় দলের উল্লেখও রয়েছে, যারা নেক আমলে পিছিয়ে থাকায় জান্নাতে প্রবেশে বিলম্বিত হবে।

এছাড়া সূরায় আল্লাহর কুদরত ও একত্ববাদের নিদর্শন হিসেবে আকাশ, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের সৃষ্টি বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব ও মুসা (আ.)-সহ ছয়জন নবীর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে মুসা (আ.)-এর কাহিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তার মোজেজা, ফেরাউনের অহংকার এবং বনি ইসরাইলের মুক্তির ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।

সূরার শেষাংশে বালআম বিন বাওরার ঘটনা, কাফেরদের অবস্থা, কেয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় এবং নবী করিম (সা.)-কে সৎ চরিত্র অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূরার শুরু ও শেষে কোরআনের মহিমা ও সম্মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে সূরা আনফাল মদিনায় অবতীর্ণ, যেখানে শরিয়তের বিধিবিধান, বিশেষ করে জিহাদ ও গনিমতের সম্পদ বণ্টনের নীতিমালা আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শুরুতে গনিমতের সম্পদ বণ্টনের বিধান, ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য এবং বদর যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের ষড়যন্ত্র, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এবং জিহাদের গুরুত্বও আলোচিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ষষ্ঠ তারাবিতে শয়তানের ধোঁকা ও নবীদের কাহিনির শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আজ ষষ্ঠ তারাবিতে সূরা আরাফের ১২ থেকে ২০৬ নম্বর আয়াত এবং সূরা আনফালের ১ থেকে ৪০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। এতে কোরআনের অষ্টম পারার শেষাংশ ও নবম পারার প্রথমাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। আজকের তারাবির আয়াতগুলোতে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের গুরুত্ব, শয়তানের প্রতারণা, নবীদের কাহিনি এবং জিহাদের বিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা আরাফ মক্কায় অবতীর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যেখানে ইসলামের মৌলিক আকিদা—আল্লাহর একত্ব, নবুয়ত ও পরকালের বিশ্বাস—বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সূরার শুরুতে কোরআনের মহিমা আলোচনা করা হয় এবং আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি এবং ইবলিসের অবাধ্যতার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে শয়তানের মানুষের সঙ্গে চিরস্থায়ী শত্রুতার বিষয়টি উল্লেখ করে ঈমানদারদের সতর্ক করা হয়েছে।

এই সূরার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে চারবার “হে আদম সন্তান” বলে সম্বোধন করেছেন। এর মধ্যে তিনবারই পোশাক ও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, শয়তানের অন্যতম লক্ষ্য মানুষকে লজ্জাশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথে পরিচালিত করা।

সূরায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুশরিকরা কাবা শরিফে উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করত এবং এটিকে পূর্বপুরুষদের অনুসরণ বলে যুক্তি দিত। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কখনো বেহায়াপনার নির্দেশ দেন না। সূরায় জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের কথোপকথন এবং ‘আরাফবাসী’ নামের একটি তৃতীয় দলের উল্লেখও রয়েছে, যারা নেক আমলে পিছিয়ে থাকায় জান্নাতে প্রবেশে বিলম্বিত হবে।

এছাড়া সূরায় আল্লাহর কুদরত ও একত্ববাদের নিদর্শন হিসেবে আকাশ, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের সৃষ্টি বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব ও মুসা (আ.)-সহ ছয়জন নবীর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে মুসা (আ.)-এর কাহিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তার মোজেজা, ফেরাউনের অহংকার এবং বনি ইসরাইলের মুক্তির ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।

সূরার শেষাংশে বালআম বিন বাওরার ঘটনা, কাফেরদের অবস্থা, কেয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় এবং নবী করিম (সা.)-কে সৎ চরিত্র অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূরার শুরু ও শেষে কোরআনের মহিমা ও সম্মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে সূরা আনফাল মদিনায় অবতীর্ণ, যেখানে শরিয়তের বিধিবিধান, বিশেষ করে জিহাদ ও গনিমতের সম্পদ বণ্টনের নীতিমালা আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শুরুতে গনিমতের সম্পদ বণ্টনের বিধান, ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য এবং বদর যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের ষড়যন্ত্র, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এবং জিহাদের গুরুত্বও আলোচিত হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ