ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'রাখাইন জাত'-এর বেগুন চাষে ভাগ্য বদল: ৫০ হাজার খরচে বিক্রি ২ লক্ষ



'রাখাইন জাত'-এর বেগুন চাষে ভাগ্য বদল: ৫০ হাজার খরচে বিক্রি ২ লক্ষ
ছবি: রাখাইন বাগান থেকে সংগৃহীত

প্রথমে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে লাউ বাস্তবে এগুলো লাউ নয়। আসলে এগুলো রাখাইন বা বার্মিজ জাতের বেগুন। যা স্থানীয়দের কাছে রাখাইন বেগুন নামে পরিচিত। যার এক একটির ওজন ১ থেকে ২ কেজি। বেগুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের অঙ্কুজান পাড়া এলাকার মং মং রাখাইন। তিনি ১ একর জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেন রাখাইন জাতের বেগুন। 

চাহিদা এবং বাজার মূল্য ভালো থাকায় প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি ২ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। মং মং রাখাইনের মতো উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নয়াভাইজোড়া এলাকার মুনছুর মুন্সিও ১ একর জমিতে করেছেন একই জাতের বেগুনের চাষ। বীজ বপনের মাত্র তিন মাসেই ক্ষেতজুড়ে এসেছে বাম্পার ফলন। দারুণ ফলন আসায় অত্যন্ত আনন্দিত এই কৃষক।

এসময় কথা হয় চাষি মং মং রাখাইনের সাথে তিনি বলেন, ‘একেকটি বেগুনের ওজন ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। একেকটি গাছেই ফলন দিচ্ছে ১২-১৫ কেজি বেগুন। অন্যান্য জাতের বেগুনের চেয়ে এর ফলন বেশি। রোগ-বালাইও কম। সেচ দিতেও হচ্ছে কম। স্বাদেও অতুলনীয় এ বেগুন। বিচি খুবই কম। তাই এই বেগুনের বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আর্থিক লাভের দিক দিয়ে অন্য অনেক ফসলকে পেছনে ফেলবে রাখাইন জাতের বেগুন।’

চাষি মুনছুর মুন্সি বলেন, ‘এই জাতের বেগুনের বিজ রোপনের মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। সার, চারা, শ্রমিক, সেচ, বালাইনাশক সব মিলিয়ে একর প্রতি মোট খরচ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বেগুন চাষাবাদে খরচ কম লাভ হয় বেশি এইজন্য আশেপাশের চাষিরাও এই বেগুন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।’

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে রাখাইন জাতের বেগুন চাষাবাদ হচ্ছে। এই জাতের বেগুন চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন চাষাবাদ বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে আছে। আমি নিজে মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও চাষিদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


'রাখাইন জাত'-এর বেগুন চাষে ভাগ্য বদল: ৫০ হাজার খরচে বিক্রি ২ লক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রথমে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে লাউ বাস্তবে এগুলো লাউ নয়। আসলে এগুলো রাখাইন বা বার্মিজ জাতের বেগুন। যা স্থানীয়দের কাছে রাখাইন বেগুন নামে পরিচিত। যার এক একটির ওজন ১ থেকে ২ কেজি। বেগুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের অঙ্কুজান পাড়া এলাকার মং মং রাখাইন। তিনি ১ একর জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেন রাখাইন জাতের বেগুন। 

চাহিদা এবং বাজার মূল্য ভালো থাকায় প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি ২ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। মং মং রাখাইনের মতো উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নয়াভাইজোড়া এলাকার মুনছুর মুন্সিও ১ একর জমিতে করেছেন একই জাতের বেগুনের চাষ। বীজ বপনের মাত্র তিন মাসেই ক্ষেতজুড়ে এসেছে বাম্পার ফলন। দারুণ ফলন আসায় অত্যন্ত আনন্দিত এই কৃষক।

এসময় কথা হয় চাষি মং মং রাখাইনের সাথে তিনি বলেন, ‘একেকটি বেগুনের ওজন ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। একেকটি গাছেই ফলন দিচ্ছে ১২-১৫ কেজি বেগুন। অন্যান্য জাতের বেগুনের চেয়ে এর ফলন বেশি। রোগ-বালাইও কম। সেচ দিতেও হচ্ছে কম। স্বাদেও অতুলনীয় এ বেগুন। বিচি খুবই কম। তাই এই বেগুনের বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আর্থিক লাভের দিক দিয়ে অন্য অনেক ফসলকে পেছনে ফেলবে রাখাইন জাতের বেগুন।’

চাষি মুনছুর মুন্সি বলেন, ‘এই জাতের বেগুনের বিজ রোপনের মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। সার, চারা, শ্রমিক, সেচ, বালাইনাশক সব মিলিয়ে একর প্রতি মোট খরচ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বেগুন চাষাবাদে খরচ কম লাভ হয় বেশি এইজন্য আশেপাশের চাষিরাও এই বেগুন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।’

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে রাখাইন জাতের বেগুন চাষাবাদ হচ্ছে। এই জাতের বেগুন চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন চাষাবাদ বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে আছে। আমি নিজে মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও চাষিদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ