ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশভেদে মুসলিমদের ইফতার আয়োজন

কোন দেশে কী দিয়ে ইফতার করে


মাসুদ রানা :
মাসুদ রানা :
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কোন দেশে কী দিয়ে ইফতার করে

পবিত্র মাস রমজানে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাসব্যাপী রোজা রাখেন। দিনের শেষ মুহূর্তে রোজা ভাঙার অনুষ্ঠান ইফতার বা ‘ইফতর’ বহু দেশে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে পালন করা হয়। জনসংখ্যা বিষয়ক অনলাইন ডেটাবেজ ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ বা প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠী রোজা রাখেন এবং ইফতারে বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেন।

পাকিস্তান: 

বিশ্বের মুসলিম সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে থাকা পাকিস্তানে ইফতারে পানি ও খেজুর দিয়ে শুরু হয়। এরপর থাকে নানা ধরনের মাংস, রুটি, কাবাব, তান্দুরি, কাটলেট, টিক্কা, রোল, নিমকি, সমুচা, চপ, পাকোড়া, ছোলা-বুট, ফালুদা, জিলাপি এবং বিরিয়ানি। পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুহ আফজা।

ইন্দোনেশিয়া: 

দেশটির মুসলিমরা ইফতারে ফল ও ফলের শরবতকে বেশি প্রাধান্য দেন। বিশেষ মিষ্টান্ন হিসেবে খাওয়া হয় বুবুর চ্যান্ডিল, বিজি সালাক, কোলাক ও এস পিসাং ইজো।

ভারত: 

দেশটির মুসলিমরা অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন। হায়দ্রাবাদের মুসলিমরা হালিম, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মুসলিমরা নমবু কাঞ্জি খেতে পছন্দ করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইফতারের আগে বিক্রি হয় পাকোড়া, সমুচা, চপ। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে খেজুর, ছোলা-বুট, ফল, দুধ, ডিম, দই, কাবাব, হালিম, কাটলেট, শর্মা, স্যুপ ও বিরিয়ানি খাওয়া হয়।

নাইজেরিয়া: 

দেশটিতে ইফতারে শর্করা জাতীয় খাবার ও ফলমূল প্রাধান্য পায়। জনপ্রিয় খাবার হলো জল্লফ রাইস, মই মই, ইয়াম, আকারা, মাসা, ইলুবো ও আমালা।

মিসর: 

দেশটির মুসলিমরা ইফতারের সময় রঙ্গিন লণ্ঠন জ্বালিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করেন। খাবারে থাকে আতায়েফ, কুনাফা, বাদামি রুটি, ফুল মেদেমাস, কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি ও সোবিয়া। এছাড়া ফল, ফলের রস ও সবজিও ইফতারে থাকে।

তুরস্ক: 

দেশটিতে খেজুর, ফলমূল, শরবত ও কাবাব প্রচলিত। রমজানে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার রামাজান পিদেসি, যা ময়দা, দুধ, মাখন, জলপাই, ডিম ও গরুর মাংসের পুর দিয়ে তৈরি করা হয়।

ইরান: 

ইফতারে রুটি, স্যুপ, র‍্যাপ, কাবাবের পাশাপাশি জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত পার্শিয়ান হালুয়া, শোলেহ জার্দ, আশ রাসতেহ স্যুপ, হালিম, স্যান্ডউইচ, তাবরেজি চিজ, জিলাপি ও বামিয়েহ খাওয়া হয়। খেজুর অপরিহার্য।

আলজেরিয়া: 

দেশটিতে ইফতারে পিজ্জা ‘সোয়ারবা’, সবজি রোল, দোলমা খাওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর পানীয় হিসেবে ‘সিগার’ নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্যুপও ইফতারের অংশ।

সৌদি আরব: 

ইফতারের শুরুতে সৌদি মুসলিমরা ‘গাহওয়া’ নামক অ্যারাবিক কফি পান ও খেজুর খান। এরপর মাগরিবের নামাজের পর ভারী খাবার গ্রহণ করেন। পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ শৌরাইক রুটি ও দুজ্ঞাহ, পূর্বাঞ্চলের লোকেরা সালুনা, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মানুষ আসিদাহ, মারগগ, মাফরৌক ও মাতাজিজ এবং থারিদ খেতে পছন্দ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কোন দেশে কী দিয়ে ইফতার করে

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র মাস রমজানে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাসব্যাপী রোজা রাখেন। দিনের শেষ মুহূর্তে রোজা ভাঙার অনুষ্ঠান ইফতার বা ‘ইফতর’ বহু দেশে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে পালন করা হয়। জনসংখ্যা বিষয়ক অনলাইন ডেটাবেজ ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ বা প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠী রোজা রাখেন এবং ইফতারে বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেন।


পাকিস্তান: 

বিশ্বের মুসলিম সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে থাকা পাকিস্তানে ইফতারে পানি ও খেজুর দিয়ে শুরু হয়। এরপর থাকে নানা ধরনের মাংস, রুটি, কাবাব, তান্দুরি, কাটলেট, টিক্কা, রোল, নিমকি, সমুচা, চপ, পাকোড়া, ছোলা-বুট, ফালুদা, জিলাপি এবং বিরিয়ানি। পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুহ আফজা।


ইন্দোনেশিয়া: 

দেশটির মুসলিমরা ইফতারে ফল ও ফলের শরবতকে বেশি প্রাধান্য দেন। বিশেষ মিষ্টান্ন হিসেবে খাওয়া হয় বুবুর চ্যান্ডিল, বিজি সালাক, কোলাক ও এস পিসাং ইজো।


ভারত: 

দেশটির মুসলিমরা অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন। হায়দ্রাবাদের মুসলিমরা হালিম, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মুসলিমরা নমবু কাঞ্জি খেতে পছন্দ করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইফতারের আগে বিক্রি হয় পাকোড়া, সমুচা, চপ। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে খেজুর, ছোলা-বুট, ফল, দুধ, ডিম, দই, কাবাব, হালিম, কাটলেট, শর্মা, স্যুপ ও বিরিয়ানি খাওয়া হয়।


নাইজেরিয়া: 

দেশটিতে ইফতারে শর্করা জাতীয় খাবার ও ফলমূল প্রাধান্য পায়। জনপ্রিয় খাবার হলো জল্লফ রাইস, মই মই, ইয়াম, আকারা, মাসা, ইলুবো ও আমালা।


মিসর: 

দেশটির মুসলিমরা ইফতারের সময় রঙ্গিন লণ্ঠন জ্বালিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করেন। খাবারে থাকে আতায়েফ, কুনাফা, বাদামি রুটি, ফুল মেদেমাস, কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি ও সোবিয়া। এছাড়া ফল, ফলের রস ও সবজিও ইফতারে থাকে।


তুরস্ক: 

দেশটিতে খেজুর, ফলমূল, শরবত ও কাবাব প্রচলিত। রমজানে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার রামাজান পিদেসি, যা ময়দা, দুধ, মাখন, জলপাই, ডিম ও গরুর মাংসের পুর দিয়ে তৈরি করা হয়।


ইরান: 

ইফতারে রুটি, স্যুপ, র‍্যাপ, কাবাবের পাশাপাশি জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত পার্শিয়ান হালুয়া, শোলেহ জার্দ, আশ রাসতেহ স্যুপ, হালিম, স্যান্ডউইচ, তাবরেজি চিজ, জিলাপি ও বামিয়েহ খাওয়া হয়। খেজুর অপরিহার্য।


আলজেরিয়া: 

দেশটিতে ইফতারে পিজ্জা ‘সোয়ারবা’, সবজি রোল, দোলমা খাওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর পানীয় হিসেবে ‘সিগার’ নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্যুপও ইফতারের অংশ।


সৌদি আরব: 

ইফতারের শুরুতে সৌদি মুসলিমরা ‘গাহওয়া’ নামক অ্যারাবিক কফি পান ও খেজুর খান। এরপর মাগরিবের নামাজের পর ভারী খাবার গ্রহণ করেন। পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ শৌরাইক রুটি ও দুজ্ঞাহ, পূর্বাঞ্চলের লোকেরা সালুনা, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মানুষ আসিদাহ, মারগগ, মাফরৌক ও মাতাজিজ এবং থারিদ খেতে পছন্দ করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ