ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগবে না?


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগবে না?

পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালনকারী মুসল্লিদের জন্য সেহরি বা সাহরি খাবার শুধু আহার নয়, এটি সারাদিন শরীরকে শক্তি ও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করার মূল কৌশল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংবাদ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সঠিক ধরনের সেহরি খাদ্য নির্বাচন করলে দিনভর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কম অনুভূত হয় এবং শরীরের শক্তি ধরে রাখা সহজ হয়।

একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বলেন, সেহরিতে শুধু খাওয়ার পরিমাণ নয়, খাবারের গুণগত উপাদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত যা ধীরে হজম হয় এবং দেহকে দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস, ব্রাউন ব্রেড বা পুরো শস্য, প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন ডিম, দই বা পনির, এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন বাদাম ও বীজের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর। এসব উপাদান দেহের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং ক্ষুধা দেরিতে আসে।

সেহরিতে হাইড্রেটিং খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম কৌশল। খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজ, শসা, কমলা ও দুধ বা নারকেল পানি মতো জলসমৃদ্ধ খাবার ও পানি দ্রুত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে এমন খাদ্য নির্বাচন করলে সারাদিন তৃষ্ণা কম অনুভূত হয় এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ভালো থাকে।

তবে সব ধরনের খাবারই সেহরির মধ্যে উপকারী নয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত লবণযুক্ত, মিষ্টি এবং ভাজা খাবার সেহরি থেকে বিরত থাকা উচিত। এই ধরনের খাবার শরীরের পানি দ্রুত বের করে দেয়, যার ফলে দিনভর তৃষ্ণা ও ক্লান্তি দ্রুত বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্ষুধা ধরে রাখতে ফাইবার ও পটাশিয়াম‑সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন কলা, শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করলে দেহের পেট দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভর্তি অনুভূত হয় এবং শক্তিও স্থিতিশীল থাকে। এছাড়া রাতের ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেহরির সময় উপযুক্ত খাদ্য নির্বাচন ও পানি‑ধারণক্ষম খাবার গ্রহণ করে প্রাচীনও আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী রোজা পালনকারী সাধারণ মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় একাগ্র ও শক্তিশালী থাকতে সক্ষম হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেহরি খাদ্যের গুণগত মান শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং সারাদিন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সতেজতাও বৃদ্ধি করে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


সাহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগবে না?

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালনকারী মুসল্লিদের জন্য সেহরি বা সাহরি খাবার শুধু আহার নয়, এটি সারাদিন শরীরকে শক্তি ও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করার মূল কৌশল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংবাদ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সঠিক ধরনের সেহরি খাদ্য নির্বাচন করলে দিনভর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কম অনুভূত হয় এবং শরীরের শক্তি ধরে রাখা সহজ হয়।

একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বলেন, সেহরিতে শুধু খাওয়ার পরিমাণ নয়, খাবারের গুণগত উপাদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত যা ধীরে হজম হয় এবং দেহকে দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস, ব্রাউন ব্রেড বা পুরো শস্য, প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন ডিম, দই বা পনির, এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন বাদাম ও বীজের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর। এসব উপাদান দেহের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং ক্ষুধা দেরিতে আসে।

সেহরিতে হাইড্রেটিং খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম কৌশল। খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজ, শসা, কমলা ও দুধ বা নারকেল পানি মতো জলসমৃদ্ধ খাবার ও পানি দ্রুত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে এমন খাদ্য নির্বাচন করলে সারাদিন তৃষ্ণা কম অনুভূত হয় এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ভালো থাকে।

তবে সব ধরনের খাবারই সেহরির মধ্যে উপকারী নয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত লবণযুক্ত, মিষ্টি এবং ভাজা খাবার সেহরি থেকে বিরত থাকা উচিত। এই ধরনের খাবার শরীরের পানি দ্রুত বের করে দেয়, যার ফলে দিনভর তৃষ্ণা ও ক্লান্তি দ্রুত বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্ষুধা ধরে রাখতে ফাইবার ও পটাশিয়াম‑সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন কলা, শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করলে দেহের পেট দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভর্তি অনুভূত হয় এবং শক্তিও স্থিতিশীল থাকে। এছাড়া রাতের ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেহরির সময় উপযুক্ত খাদ্য নির্বাচন ও পানি‑ধারণক্ষম খাবার গ্রহণ করে প্রাচীনও আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী রোজা পালনকারী সাধারণ মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় একাগ্র ও শক্তিশালী থাকতে সক্ষম হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেহরি খাদ্যের গুণগত মান শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং সারাদিন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সতেজতাও বৃদ্ধি করে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ