ঢাকার আশুলিয়ায় পৈত্রিক জমি জবরদখল, প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মামলায় রূপ নেওয়ার পর দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো: জাকিরুল ইসলাম (৪৫) ও মো: জিন্নাতুল ইসলাম রিপন (৪৯) আপন দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
থানা সূত্র জানায়, মো: রাকিবুল ইসলাম শিবলু (৪২) দায়ের করা জিডি নং ৩৩৪৭ (ট্র্যাকিং নং: T9GBM) তদন্ত শেষে নিয়মিত মামলায় রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে প্রসিকিউশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়া থানাধীন গণকবাড়ী মৌজার সিএস ও এসএ-৬৮১, আরএস-৮৪৩ ও ৮৩৯ এবং বিআরএস-১৩৬২৯ নম্বর দাগে মোট ৭৮ শতাংশ জমির পৈত্রিক মালিকানা দাবি করেন রাকিবুল ইসলাম শিবলু ও তার পরিবার। তার পিতা মো: সবুর উদ্দিন মন্ডলের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা তাদের ওপর বর্তায়।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পাশের ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও ২০১৮ সালে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন। জমির সীমানা নির্ধারণের অনুরোধ করলে খারাপ আচরণ, হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ সকাল প্রায় ১১টার দিকে বাদী নিজ জমিতে কাজ করতে গেলে অভিযুক্ত দুই ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের নথিতে উল্লেখ্য করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৯ আগস্ট ২০২৫ উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত আপোষনামা হয়। সেখানে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে আরএস ভিত্তিক ডিজিটাল পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, যার পক্ষে জমি প্রমাণিত হবে না, তিনি পরিমাপের খরচ বহন করবেন; আর অন্যের জমি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অংশ খালি করে দিতে হবে। পরে সালিশি মীমাংস মোতাবেক সবকিছু তার পক্ষে আসলেও অভিযুক্তরা কোনভাবেই সেই রায় মানতে রাজি নয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং চাপ অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, গণকবাড়ী ও কাইচাবাড়ী এলাকা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় শিল্পায়নের কারণে জমির মূল্য বেড়েছে। বিআরএস দাগভিত্তিক মালিকানা নিয়ে এ অঞ্চলে প্রায়ই বিরোধের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যা প্রমাণিত হবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে আরও আসামি যুক্ত হতে পারে।
অভিযোগকারী পরিবার আশা করছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা তাদের পৈত্রিক জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার আশুলিয়ায় পৈত্রিক জমি জবরদখল, প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মামলায় রূপ নেওয়ার পর দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো: জাকিরুল ইসলাম (৪৫) ও মো: জিন্নাতুল ইসলাম রিপন (৪৯) আপন দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
থানা সূত্র জানায়, মো: রাকিবুল ইসলাম শিবলু (৪২) দায়ের করা জিডি নং ৩৩৪৭ (ট্র্যাকিং নং: T9GBM) তদন্ত শেষে নিয়মিত মামলায় রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে প্রসিকিউশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়া থানাধীন গণকবাড়ী মৌজার সিএস ও এসএ-৬৮১, আরএস-৮৪৩ ও ৮৩৯ এবং বিআরএস-১৩৬২৯ নম্বর দাগে মোট ৭৮ শতাংশ জমির পৈত্রিক মালিকানা দাবি করেন রাকিবুল ইসলাম শিবলু ও তার পরিবার। তার পিতা মো: সবুর উদ্দিন মন্ডলের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা তাদের ওপর বর্তায়।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পাশের ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও ২০১৮ সালে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন। জমির সীমানা নির্ধারণের অনুরোধ করলে খারাপ আচরণ, হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ সকাল প্রায় ১১টার দিকে বাদী নিজ জমিতে কাজ করতে গেলে অভিযুক্ত দুই ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের নথিতে উল্লেখ্য করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৯ আগস্ট ২০২৫ উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত আপোষনামা হয়। সেখানে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে আরএস ভিত্তিক ডিজিটাল পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, যার পক্ষে জমি প্রমাণিত হবে না, তিনি পরিমাপের খরচ বহন করবেন; আর অন্যের জমি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অংশ খালি করে দিতে হবে। পরে সালিশি মীমাংস মোতাবেক সবকিছু তার পক্ষে আসলেও অভিযুক্তরা কোনভাবেই সেই রায় মানতে রাজি নয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং চাপ অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, গণকবাড়ী ও কাইচাবাড়ী এলাকা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় শিল্পায়নের কারণে জমির মূল্য বেড়েছে। বিআরএস দাগভিত্তিক মালিকানা নিয়ে এ অঞ্চলে প্রায়ই বিরোধের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যা প্রমাণিত হবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে আরও আসামি যুক্ত হতে পারে।
অভিযোগকারী পরিবার আশা করছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা তাদের পৈত্রিক জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন