ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে ছিনতাই-চাঁদাবাজির মহোৎসব, আতঙ্কে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা


আবু সাঈদ
আবু সাঈদ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে ছিনতাই-চাঁদাবাজির মহোৎসব, আতঙ্কে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘সাইনবোর্ড’ এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার। সন্ধ্যা নামলেই এলাকা পরিণত হয় অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায়। সাধারণ পথচারী, যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত প্রাণভয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় সক্রিয় রয়েছে দুটি পৃথক অপরাধী চক্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দাদের দাবি, অটোচালক শাওন ও বাস কাউন্টারের কর্মরত ফয়সালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তাদের কথামতো না চললে কিংবা কোনো অভিযোগ করলে ভুক্তভোগীদের অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি প্রতিবাদকারীদের সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পথচারীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধারালো অস্ত্রের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। মহাসড়কের ব্যস্ত এই পয়েন্টে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।

ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে মারধর ও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান একাধিক হকার।

মহাসড়কের পাশের নির্জন স্থানগুলো এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়ে ক্লান্ত। শাওন আর ফয়সালের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তারা প্রভাবশালী। আমরা শুধু একটু শান্তিতে পথ চলতে চাই।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিকবার অভিযান পরিচালনার কথা জানা গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।

গুরুত্বপূর্ণ এই হাইওয়ে পয়েন্টে দিনের পর দিন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি—সাময়িক গ্রেপ্তার নয়, বরং বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করে সাইনবোর্ড এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে ছিনতাই-চাঁদাবাজির মহোৎসব, আতঙ্কে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘সাইনবোর্ড’ এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার। সন্ধ্যা নামলেই এলাকা পরিণত হয় অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায়। সাধারণ পথচারী, যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত প্রাণভয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় সক্রিয় রয়েছে দুটি পৃথক অপরাধী চক্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দাদের দাবি, অটোচালক শাওন ও বাস কাউন্টারের কর্মরত ফয়সালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তাদের কথামতো না চললে কিংবা কোনো অভিযোগ করলে ভুক্তভোগীদের অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি প্রতিবাদকারীদের সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পথচারীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধারালো অস্ত্রের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। মহাসড়কের ব্যস্ত এই পয়েন্টে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।

ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে মারধর ও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান একাধিক হকার।

মহাসড়কের পাশের নির্জন স্থানগুলো এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়ে ক্লান্ত। শাওন আর ফয়সালের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তারা প্রভাবশালী। আমরা শুধু একটু শান্তিতে পথ চলতে চাই।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিকবার অভিযান পরিচালনার কথা জানা গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।

গুরুত্বপূর্ণ এই হাইওয়ে পয়েন্টে দিনের পর দিন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি—সাময়িক গ্রেপ্তার নয়, বরং বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করে সাইনবোর্ড এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করা হোক।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ