মহাকালের আবর্তে প্রতিটি বছর ঘুরে পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে নিয়ে আসে এক দিব্যলোকের বার্তা। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং মুমিনের আত্মার প্রশান্তি এবং মহাশুদ্ধির এক অনন্য স্রোতোধারা। মরুভূমির তপ্ত বালুকে যেমন বৃষ্টির ফোঁটা সিক্ত করে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে, রমজান ঠিক তেমনি পাপের ভারে ক্লান্ত মানুষের অন্তরে রহমতের অফুরন্ত ধারা বইয়ে দেয়। এটি একটি আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুমিন তার নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
রমজান শব্দটির প্রকৃত অর্থই হলো দহন ও পরিশুদ্ধি। এই মাস মানুষের অন্তরের কালিমা পুড়িয়ে দিয়ে আত্মাকে নির্মল করে। রোজা রাখা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে মুমিন তার প্রবৃত্তির দাস নয়, সে তার স্রষ্টার দাস। দিনের বেলা চোখের সামনে খাবার ও পানীয় থাকলেও আল্লাহর ভয়ে তা গ্রহণ না করার মাধ্যমে মানুষের ভেতরে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি জাগ্রত হয়। রমজান আমাদের চোখ, জিহ্বা ও কানকে পাপাচার থেকে বিরত রেখে আত্মিক উৎকর্ষ সাধনের শিক্ষা দেয়।
এই মাস একইসঙ্গে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রমজানে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের হৃদয়ে দানশীলতা ও সহমর্মিতার উদয় হয়। ক্ষুধার কষ্ট একজন বিত্তবানকে দরিদ্রের অভাব বুঝতে শেখায়, যা সমাজে সাম্যের পরিবেশ তৈরি করে। রাতের অন্ধকারে সিজদায় কান্নার মাধ্যমে মানুষ তার অতীতের গুনাহের ক্ষমা চায় এবং নতুন জীবনের প্রতিজ্ঞা করে। বিশেষ করে শেষ দশকের ‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক রাত, যা মুমিনকে জাহান্নাম ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়।
কোরআন নাজিলের এই মাসে মুমিনের উচিত কোরআনের আলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা। রমজান আমাদের সরলতা ও কৃতজ্ঞতা শেখায়। ইফতার বা সাহরিতে বিলাসিতার প্রতিযোগিতা পরিহার করে অপচয়মুক্ত জীবন গড়ার শিক্ষা দেওয়াই এই মাসের মূল লক্ষ্য। যদি রমজানের এই প্রশিক্ষণ আমরা সারা বছর ধরে রাখতে পারি, তবেই আমাদের ব্যক্তিজীবন হবে সফল এবং সমাজ হবে ন্যায়নিষ্ঠ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এই রহমতের ফল্গুধারায় সিক্ত হয়ে প্রকৃত মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মহাকালের আবর্তে প্রতিটি বছর ঘুরে পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে নিয়ে আসে এক দিব্যলোকের বার্তা। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং মুমিনের আত্মার প্রশান্তি এবং মহাশুদ্ধির এক অনন্য স্রোতোধারা। মরুভূমির তপ্ত বালুকে যেমন বৃষ্টির ফোঁটা সিক্ত করে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে, রমজান ঠিক তেমনি পাপের ভারে ক্লান্ত মানুষের অন্তরে রহমতের অফুরন্ত ধারা বইয়ে দেয়। এটি একটি আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুমিন তার নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
রমজান শব্দটির প্রকৃত অর্থই হলো দহন ও পরিশুদ্ধি। এই মাস মানুষের অন্তরের কালিমা পুড়িয়ে দিয়ে আত্মাকে নির্মল করে। রোজা রাখা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে মুমিন তার প্রবৃত্তির দাস নয়, সে তার স্রষ্টার দাস। দিনের বেলা চোখের সামনে খাবার ও পানীয় থাকলেও আল্লাহর ভয়ে তা গ্রহণ না করার মাধ্যমে মানুষের ভেতরে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি জাগ্রত হয়। রমজান আমাদের চোখ, জিহ্বা ও কানকে পাপাচার থেকে বিরত রেখে আত্মিক উৎকর্ষ সাধনের শিক্ষা দেয়।
এই মাস একইসঙ্গে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রমজানে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের হৃদয়ে দানশীলতা ও সহমর্মিতার উদয় হয়। ক্ষুধার কষ্ট একজন বিত্তবানকে দরিদ্রের অভাব বুঝতে শেখায়, যা সমাজে সাম্যের পরিবেশ তৈরি করে। রাতের অন্ধকারে সিজদায় কান্নার মাধ্যমে মানুষ তার অতীতের গুনাহের ক্ষমা চায় এবং নতুন জীবনের প্রতিজ্ঞা করে। বিশেষ করে শেষ দশকের ‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক রাত, যা মুমিনকে জাহান্নাম ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়।
কোরআন নাজিলের এই মাসে মুমিনের উচিত কোরআনের আলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা। রমজান আমাদের সরলতা ও কৃতজ্ঞতা শেখায়। ইফতার বা সাহরিতে বিলাসিতার প্রতিযোগিতা পরিহার করে অপচয়মুক্ত জীবন গড়ার শিক্ষা দেওয়াই এই মাসের মূল লক্ষ্য। যদি রমজানের এই প্রশিক্ষণ আমরা সারা বছর ধরে রাখতে পারি, তবেই আমাদের ব্যক্তিজীবন হবে সফল এবং সমাজ হবে ন্যায়নিষ্ঠ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এই রহমতের ফল্গুধারায় সিক্ত হয়ে প্রকৃত মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করেন।

আপনার মতামত লিখুন