সৌদি আরবের তৈরি দাপ্তরিক হিজরি ক্যালেন্ডার উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন পড়বে। তবে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাবে না।
গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ উঠেছে, চাঁদ দেখা যাক বা না যাক— সৌদি আরব তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে থাকে। গত বছরের ২৬ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখার বিষয়ে ‘মিথ্যা’ তথ্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।
মুসলিমরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন। চন্দ্রবর্ষে ১২টি মাস থাকে, এবং প্রতিটি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়। রমজান শেষ হওয়ার বিষয়টিও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে, আবার কিছু দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে কোনো চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় সেখানকার মুসল্লিরা সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করেন, যদিও আলেমরা এ বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছেন।
বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক বেশি দেখা যায়। ২০২৩ সালে জ্যোতির্বিদরা সৌদির ঈদ ঘোষণার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, ঈদ সেদিন হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সৌদি তাদের নির্ধারিত তারিখেই ঈদের ঘোষণা দেয়। ২০ এপ্রিল সৌদি আরব চাঁদ অনুসন্ধান করছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, আরব উপদ্বীপে সেদিন চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ দেখলে প্রমাণ হিসেবে ছবি তুলতে হবে। পরদিন ২১ এপ্রিল সৌদি ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেয়।
অনেক পর্যবেক্ষক সৌদির কাছে চাঁদ দেখার প্রমাণ চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা কোনো ছবি দেয়নি। পরে সৌদির জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি অনুজ্বল চাঁদের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, এটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা। ২০২৪ সালের ৬ জুনও সৌদি আরব চাঁদ দেখার দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে, যদিও জ্যোতির্বিদরা বৈজ্ঞানিকভাবে এটি অসম্ভব বলেছিলেন।
নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামের ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সংস্থা প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ মিডেল ইস্ট আইকে বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে যেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়, সেখানে সৌদি আরব চাঁদ দেখার তথ্য দিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্ম আল-কুরা বর্ষপঞ্জিকার সঙ্গে মিলে যায়, যদিও বাস্তব চাঁদ দেখা সঙ্গে মিল থাকে না। প্রতি বছর নির্দিষ্ট এলাকার দুই-তিনজন ব্যক্তি চাঁদ দেখার দাবি করেন, অন্য কেউ তা করে না।
ইমাদ আহমেদ আরও বলেন, সৌদি একমাত্র দেশ নয়, যা হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে ঈদের দিন নির্ধারণ করে। তুরস্কও হিসাব ব্যবহার করে, তবে তারা স্বচ্ছভাবে ঘোষণা দেয় এবং চাঁদ দেখা দাবি করে না, যেমন সৌদি আরব করে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সৌদি আরবের তৈরি দাপ্তরিক হিজরি ক্যালেন্ডার উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন পড়বে। তবে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাবে না।
গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ উঠেছে, চাঁদ দেখা যাক বা না যাক— সৌদি আরব তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে থাকে। গত বছরের ২৬ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখার বিষয়ে ‘মিথ্যা’ তথ্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।
মুসলিমরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন। চন্দ্রবর্ষে ১২টি মাস থাকে, এবং প্রতিটি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়। রমজান শেষ হওয়ার বিষয়টিও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে, আবার কিছু দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে কোনো চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় সেখানকার মুসল্লিরা সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করেন, যদিও আলেমরা এ বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছেন।
বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক বেশি দেখা যায়। ২০২৩ সালে জ্যোতির্বিদরা সৌদির ঈদ ঘোষণার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, ঈদ সেদিন হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সৌদি তাদের নির্ধারিত তারিখেই ঈদের ঘোষণা দেয়। ২০ এপ্রিল সৌদি আরব চাঁদ অনুসন্ধান করছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, আরব উপদ্বীপে সেদিন চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ দেখলে প্রমাণ হিসেবে ছবি তুলতে হবে। পরদিন ২১ এপ্রিল সৌদি ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেয়।
অনেক পর্যবেক্ষক সৌদির কাছে চাঁদ দেখার প্রমাণ চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা কোনো ছবি দেয়নি। পরে সৌদির জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি অনুজ্বল চাঁদের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, এটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা। ২০২৪ সালের ৬ জুনও সৌদি আরব চাঁদ দেখার দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে, যদিও জ্যোতির্বিদরা বৈজ্ঞানিকভাবে এটি অসম্ভব বলেছিলেন।
নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামের ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সংস্থা প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ মিডেল ইস্ট আইকে বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে যেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়, সেখানে সৌদি আরব চাঁদ দেখার তথ্য দিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্ম আল-কুরা বর্ষপঞ্জিকার সঙ্গে মিলে যায়, যদিও বাস্তব চাঁদ দেখা সঙ্গে মিল থাকে না। প্রতি বছর নির্দিষ্ট এলাকার দুই-তিনজন ব্যক্তি চাঁদ দেখার দাবি করেন, অন্য কেউ তা করে না।
ইমাদ আহমেদ আরও বলেন, সৌদি একমাত্র দেশ নয়, যা হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে ঈদের দিন নির্ধারণ করে। তুরস্কও হিসাব ব্যবহার করে, তবে তারা স্বচ্ছভাবে ঘোষণা দেয় এবং চাঁদ দেখা দাবি করে না, যেমন সৌদি আরব করে।

আপনার মতামত লিখুন