ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৬৮ শতাংশ ম্যান্ডেটের দাবি জামায়াত আমিরের

৪০ শতাংশ ভোটে জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত জামায়াত জোট


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪০ শতাংশ ভোটে জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত জামায়াত জোট
চিত্র : সংগৃহীত

বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং তারা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দেন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করেন। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোট কাঠামোগত কারণে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫৩টি আসনে বিএনপি কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আইনের আওতায় বৈধ সব পন্থায় প্রচেষ্টা চালানো হবে। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট আসনে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার দায়িত্বশীল উদ্যোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব স্থানে ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তাদের প্রতিনিধিরা আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে গণনা এবং প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর।

ত্যাগ-কুরবানি ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ এবং গণভোটে ৪ কোটি ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ ও ২ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে প্রায় ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কারের পক্ষে এসেছে, যা পরিবর্তনের পক্ষে একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করবে—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটি যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও তার প্রত্যাশা, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে তারা যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন যে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই দেশ পরিচালিত হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের পক্ষপাতহীনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, এই সময়ে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রয়োজন রয়েছে। শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে হবে, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে হবে এবং সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দেশ গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৪০ শতাংশ ভোটে জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত জামায়াত জোট

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং তারা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দেন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করেন। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি বলেন, বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোট কাঠামোগত কারণে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫৩টি আসনে বিএনপি কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আইনের আওতায় বৈধ সব পন্থায় প্রচেষ্টা চালানো হবে। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট আসনে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার দায়িত্বশীল উদ্যোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব স্থানে ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তাদের প্রতিনিধিরা আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে গণনা এবং প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর।


ত্যাগ-কুরবানি ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ এবং গণভোটে ৪ কোটি ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ ও ২ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে প্রায় ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কারের পক্ষে এসেছে, যা পরিবর্তনের পক্ষে একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করবে—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটি যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও তার প্রত্যাশা, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে তারা যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন যে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই দেশ পরিচালিত হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের পক্ষপাতহীনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।


পরিশেষে তিনি বলেন, এই সময়ে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রয়োজন রয়েছে। শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে হবে, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে হবে এবং সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দেশ গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ