ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৭৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন, যার মধ্যে ৯২টি কেন্দ্রকে রাখা হয়েছে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’র তালিকায়।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো জেলায় গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কারণে নয়, বরং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে ছয়টি এবং এর প্রতিটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর): ৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক): ১৫১টির মধ্যে ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর): ১৯২টির মধ্যে ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া): ১৩০টির মধ্যে ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর): ১৫৪টির মধ্যে ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর): ৯৮টির মধ্যে ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলায় প্রথমবারের মতো ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার—এই পাঁচ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম মাঠ পর্যায়ে টহলে থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার জাহান জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ সদস্য এবং ৮ থেকে ১০ জন আনসার সদস্য সরাসরি মোতায়েন থাকবেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্রের ধরন যাই হোক না কেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য জেলায় প্রায় ১০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ। প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ভোটারদের মাঝে আস্থা ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৮ জন এবং নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৭৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন, যার মধ্যে ৯২টি কেন্দ্রকে রাখা হয়েছে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’র তালিকায়।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো জেলায় গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কারণে নয়, বরং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে ছয়টি এবং এর প্রতিটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর): ৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক): ১৫১টির মধ্যে ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর): ১৯২টির মধ্যে ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া): ১৩০টির মধ্যে ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর): ১৫৪টির মধ্যে ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর): ৯৮টির মধ্যে ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলায় প্রথমবারের মতো ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার—এই পাঁচ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম মাঠ পর্যায়ে টহলে থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার জাহান জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ সদস্য এবং ৮ থেকে ১০ জন আনসার সদস্য সরাসরি মোতায়েন থাকবেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্রের ধরন যাই হোক না কেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য জেলায় প্রায় ১০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ। প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ভোটারদের মাঝে আস্থা ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৮ জন এবং নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন।

আপনার মতামত লিখুন