রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দেশে যখন বেসরকারি বিনিয়োগে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে পোলট্রি ফিড, স্বাস্থ্যসেবা ও হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদনে বড় চমক দেখিয়েছে আকিজ রিসোর্স ও আকিজ বশির গ্রুপ।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প পরিবার আকিজ গ্রুপের উত্তরসূরিদের পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরে দেশের শিল্প ও সেবা খাতের বহুমুখীকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ বিভিন্ন খাতে ৮০০ কোটি টাকা এবং আকিজ বশির গ্রুপ কেবল উৎপাদন শিল্পে ৩০০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
প্রয়াত শিল্পোদ্যোক্তা শেখ আকিজ উদ্দিনের সন্তান শেখ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০২০ সাল থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে অত্যাধুনিক ফিড কারখানা স্থাপন করেছে, যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মাছ ও গবাদি পশুর খাবার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কেবল ভারী শিল্পেই নয়, খুচরা বিক্রয় ও সেবা খাতেও অবস্থান শক্ত করছে গ্রুপটি। গত বছরের জুন মাসে ‘আকিজ ফার্মেসি’র মাধ্যমে ওষুধ ব্যবসায় নামার পর বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র সচল রয়েছে। এছাড়াও গত নভেম্বর মাসে তারা কর্মসংস্থান বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘নেক্সট জবস’ চালু করেছে এবং ‘মুনাফা ইসলামিক ডিজিটাল ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জমা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আকিজ রিসোর্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শেখ জসিম উদ্দিন জানান, বিগত তিন বছরে তারা প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আগামী সাত বছরে সিমেন্ট, ইস্পাত ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে, দেশের কেবল বা তার উৎপাদন খাতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আকিজ বশির গ্রুপ। গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাতে তাদের যাত্রার কথা ঘোষণা করে। গ্রুপটি ইতোমধ্যে একটি বিদ্যমান কারখানা অধিগ্রহণ করেছে, যেখানে বছরে ৩০০ টন কপার কেবল এবং ২০০ টন পিভিসি প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আকিজ বশির গ্রুপের কর্ণধার শেখ বশির উদ্দিন বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আকিজ রিসোর্স গ্রুপ শুধু ওষুধ বিক্রয় নয়, বরং মিরপুরে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি উন্নত মানের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং কৃষিকাজের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন, কীটনাশক ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও তাদের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে শহরজুড়ে ছোট ছোট সুপারশপ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আকিজ গ্রুপের এই বৃহৎ বিনিয়োগ দেশের শিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দেশে যখন বেসরকারি বিনিয়োগে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে পোলট্রি ফিড, স্বাস্থ্যসেবা ও হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদনে বড় চমক দেখিয়েছে আকিজ রিসোর্স ও আকিজ বশির গ্রুপ।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প পরিবার আকিজ গ্রুপের উত্তরসূরিদের পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরে দেশের শিল্প ও সেবা খাতের বহুমুখীকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ বিভিন্ন খাতে ৮০০ কোটি টাকা এবং আকিজ বশির গ্রুপ কেবল উৎপাদন শিল্পে ৩০০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
প্রয়াত শিল্পোদ্যোক্তা শেখ আকিজ উদ্দিনের সন্তান শেখ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০২০ সাল থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে অত্যাধুনিক ফিড কারখানা স্থাপন করেছে, যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মাছ ও গবাদি পশুর খাবার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কেবল ভারী শিল্পেই নয়, খুচরা বিক্রয় ও সেবা খাতেও অবস্থান শক্ত করছে গ্রুপটি। গত বছরের জুন মাসে ‘আকিজ ফার্মেসি’র মাধ্যমে ওষুধ ব্যবসায় নামার পর বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র সচল রয়েছে। এছাড়াও গত নভেম্বর মাসে তারা কর্মসংস্থান বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘নেক্সট জবস’ চালু করেছে এবং ‘মুনাফা ইসলামিক ডিজিটাল ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জমা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আকিজ রিসোর্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শেখ জসিম উদ্দিন জানান, বিগত তিন বছরে তারা প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আগামী সাত বছরে সিমেন্ট, ইস্পাত ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে, দেশের কেবল বা তার উৎপাদন খাতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আকিজ বশির গ্রুপ। গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাতে তাদের যাত্রার কথা ঘোষণা করে। গ্রুপটি ইতোমধ্যে একটি বিদ্যমান কারখানা অধিগ্রহণ করেছে, যেখানে বছরে ৩০০ টন কপার কেবল এবং ২০০ টন পিভিসি প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আকিজ বশির গ্রুপের কর্ণধার শেখ বশির উদ্দিন বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আকিজ রিসোর্স গ্রুপ শুধু ওষুধ বিক্রয় নয়, বরং মিরপুরে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি উন্নত মানের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং কৃষিকাজের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন, কীটনাশক ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও তাদের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে শহরজুড়ে ছোট ছোট সুপারশপ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আকিজ গ্রুপের এই বৃহৎ বিনিয়োগ দেশের শিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন