নওগাঁর মহাদেবপুরে অটোচার্জার ভাড়া করে চালককে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত একটি অটোচার্জার গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মহাদেবপুর থানাধীন ৫ নম্বর রাইগাঁ ইউনিয়নের বেতবহুতি গ্রামের নজিপুর–মাতাজীহাটগামী পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী অটোচার্জার চালক মো. মোসাদ্দেক (১৮)-কে নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে অচেতন করে মুখ চেপে ধরে মারধর করে। পরে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে তার অটোচার্জার গাড়ি (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা), একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা) ও নগদ ১ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক মো. মোসাদ্দেক, পিতা- মো. মকলেছুর রহমান, সাং- রজাকপুর মধ্যপাড়া, থানা- নওগাঁ সদর, জেলা- নওগাঁ বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এলে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পাল-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মহাদেবপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ টিম গঠন করা হয়।
তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে মো. শাহিন (৩১)-কে লুণ্ঠিত ইনফিনিক্স মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানা জানান।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে বদলগাছী থানা এলাকা থেকে মো. আকবর (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মো. তুষার সরদার (৩০) ও মো. আজিম (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত অটোচার্জার গাড়িটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় ৪০ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক অভিযানে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত মো. শাহিন ও মো. আকবরের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুরে অটোচার্জার ভাড়া করে চালককে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত একটি অটোচার্জার গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মহাদেবপুর থানাধীন ৫ নম্বর রাইগাঁ ইউনিয়নের বেতবহুতি গ্রামের নজিপুর–মাতাজীহাটগামী পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী অটোচার্জার চালক মো. মোসাদ্দেক (১৮)-কে নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে অচেতন করে মুখ চেপে ধরে মারধর করে। পরে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে তার অটোচার্জার গাড়ি (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা), একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা) ও নগদ ১ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক মো. মোসাদ্দেক, পিতা- মো. মকলেছুর রহমান, সাং- রজাকপুর মধ্যপাড়া, থানা- নওগাঁ সদর, জেলা- নওগাঁ বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এলে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পাল-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মহাদেবপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ টিম গঠন করা হয়।
তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে মো. শাহিন (৩১)-কে লুণ্ঠিত ইনফিনিক্স মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানা জানান।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে বদলগাছী থানা এলাকা থেকে মো. আকবর (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মো. তুষার সরদার (৩০) ও মো. আজিম (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত অটোচার্জার গাড়িটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় ৪০ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক অভিযানে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত মো. শাহিন ও মো. আকবরের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন