দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে এবং বাণিজ্যিক বিরোধগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো সারা দেশে বিশেষায়িত ‘বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন, মেধা সম্পদ ও যৌথ উদ্যোগ চুক্তিসহ অন্তত ২৪ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরসহ জেলা পর্যায়ে মোট ৭৪টি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে তিনটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগরের জন্য একটি করে পৃথক বাণিজ্যিক আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর এলাকাগুলোতে মোট ১১টি আদালত কার্যকর হলেও সারা দেশের জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এই বিশেষায়িত আদালতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪টিতে।
ঢাকা মহানগরের তিনটি আদালতের এখতিয়ার:
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-১: ধানমন্ডি, আদাবর, শাহ আলী, মিরপুর মডেল, পল্লবী, দারুস সালাম, রূপনগর, উত্তরা (পশ্চিম ও পূর্ব), উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, ক্যান্টনমেন্ট, শেরেবাংলা নগর, বিমানবন্দর, ভাষানটেক ও কাফরুল থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-২: মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, গুলশান, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, রামপুরা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, বনানী, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শাহজাহানপুর থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-৩: কোতোয়ালি, শ্যামপুর, চকবাজার, বংশাল, কদমতলী, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, সূত্রাপুর, লালবাগ, নিউমার্কেট, কামরাঙ্গীচর, হাজারীবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, সবুজবাগ ও পল্টন থানা।
উল্লেখ্য, মহানগরের বাইরের এলাকাগুলোর জন্য ‘ঢাকা জেলা বাণিজ্যিক আদালত’ নামে আলাদা একটি আদালত কাজ করবে। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি আদালতের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের জন্য পৃথক আদালত রাখা হয়েছে।
আদালতের বিশেষত্ব ও লক্ষ্য:
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই আদালতগুলোতে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকগণ দায়িত্ব পালন করবেন। বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ অনুসরণ করে এই আদালতগুলোতে ভার্চুয়াল শুনানি এবং ই-ফাইলিংয়ের সুবিধাও থাকবে। এই বিশেষায়িত ব্যবস্থার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে এবং বাণিজ্যিক বিরোধগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো সারা দেশে বিশেষায়িত ‘বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন, মেধা সম্পদ ও যৌথ উদ্যোগ চুক্তিসহ অন্তত ২৪ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরসহ জেলা পর্যায়ে মোট ৭৪টি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে তিনটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগরের জন্য একটি করে পৃথক বাণিজ্যিক আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর এলাকাগুলোতে মোট ১১টি আদালত কার্যকর হলেও সারা দেশের জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এই বিশেষায়িত আদালতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪টিতে।
ঢাকা মহানগরের তিনটি আদালতের এখতিয়ার:
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-১: ধানমন্ডি, আদাবর, শাহ আলী, মিরপুর মডেল, পল্লবী, দারুস সালাম, রূপনগর, উত্তরা (পশ্চিম ও পূর্ব), উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, ক্যান্টনমেন্ট, শেরেবাংলা নগর, বিমানবন্দর, ভাষানটেক ও কাফরুল থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-২: মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, গুলশান, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, রামপুরা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, বনানী, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শাহজাহানপুর থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-৩: কোতোয়ালি, শ্যামপুর, চকবাজার, বংশাল, কদমতলী, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, সূত্রাপুর, লালবাগ, নিউমার্কেট, কামরাঙ্গীচর, হাজারীবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, সবুজবাগ ও পল্টন থানা।
উল্লেখ্য, মহানগরের বাইরের এলাকাগুলোর জন্য ‘ঢাকা জেলা বাণিজ্যিক আদালত’ নামে আলাদা একটি আদালত কাজ করবে। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি আদালতের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের জন্য পৃথক আদালত রাখা হয়েছে।
আদালতের বিশেষত্ব ও লক্ষ্য:
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই আদালতগুলোতে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকগণ দায়িত্ব পালন করবেন। বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ অনুসরণ করে এই আদালতগুলোতে ভার্চুয়াল শুনানি এবং ই-ফাইলিংয়ের সুবিধাও থাকবে। এই বিশেষায়িত ব্যবস্থার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন