ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত: কোচিং ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত: কোচিং ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান


দেশে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার এবং নোট-গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১১টি অধ্যায় ও ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত এই খসড়াটি বর্তমানে জনমত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে সব ধরনের বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে এসব নিরুৎসাহিত করা হলেও সরকার অনুমোদিত ‘সহায়ক পুস্তক’ এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া আইনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) জানিয়েছেন, এই আইনটি দীর্ঘ আলোচনার ফসল এবং এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে একটি আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত ইমেইলে ([email protected]) সাধারণ নাগরিকরা এই আইনের ওপর তাঁদের মতামত জানাতে পারবেন।

খসড়া আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি এবং র‌্যাগিং ও সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ নিষিদ্ধ করা। ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতা এবং স্নাতক পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই আইনটি অন্য যেকোনো প্রচলিত আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত: কোচিং ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


দেশে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার এবং নোট-গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১১টি অধ্যায় ও ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত এই খসড়াটি বর্তমানে জনমত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে সব ধরনের বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে এসব নিরুৎসাহিত করা হলেও সরকার অনুমোদিত ‘সহায়ক পুস্তক’ এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া আইনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) জানিয়েছেন, এই আইনটি দীর্ঘ আলোচনার ফসল এবং এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে একটি আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত ইমেইলে ([email protected]) সাধারণ নাগরিকরা এই আইনের ওপর তাঁদের মতামত জানাতে পারবেন।

খসড়া আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি এবং র‌্যাগিং ও সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ নিষিদ্ধ করা। ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতা এবং স্নাতক পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই আইনটি অন্য যেকোনো প্রচলিত আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ