ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অবশেষে বেরিয়ে আসলো গৃহকর্মী শিশু নির্যাতনের নির্মম চিত্র

গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত


ডেস্ক রিপোর্ট :
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত
চিত্র : সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন, তার পুরো শরীরজুড়ে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যম প্রতিনিধির। তিনি জানান, মেয়ের বয়স যখন এক বছর, তখন সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী মারা যান। এরপর এক দশকের বেশি সময় কেটে গেলেও মেয়ের কষ্টের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি তিনি। আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সাত মাস আগে তিনি মেয়েকে ঢাকার উত্তরার একটি বিত্তবান পরিবারে কাজে দেন। পরিবারটি মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিবারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মেয়েটি এখন হাসপাতালের শয্যাশায়ী।

শিশুটির বাবা জানান, গত বছরের জুন মাসে তিনি মেয়েকে যে বাসায় কাজে দেন, সেটি ছিল বিমান বাংলাদেশের এমডি সাফিকুর রহমানের বাসা। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে আনতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে জানতে চাইলে সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আক্তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ঘটনায় গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ওই দিনই দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

মেয়েটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর মেয়ের গলা, পিঠ, হাত ও পাসহ শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে। চিকিৎসকের বরাতে তিনি জানান, শিশুটির সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে এবং বর্তমানে সে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছে না।

শিশুটির পরিবার পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। বাবা আশুলিয়ার একটি হোটেলে কাজ করেন। তিনি জানান, গত বছরের জুনে বিমানের এমডির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে তাঁর পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে জানান, বাসাটিতে বাচ্চা দেখাশোনার কাজে একটি ছোট মেয়ে প্রয়োজন। পরে তিনি বাসায় গিয়ে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

তাঁরা মেয়েটির ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি রাজি হয়ে মেয়েকে সেখানে কাজে দেন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর কয়েকবার দেখা করতে গেলে নানা অজুহাতে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি দুপুরে বিথী আক্তার ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে সন্ধ্যার দিকে মেয়েটিকে তাঁর বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র : প্রথম আলো।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


নির্যাতনের শিকার শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন, তার পুরো শরীরজুড়ে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যম প্রতিনিধির। তিনি জানান, মেয়ের বয়স যখন এক বছর, তখন সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী মারা যান। এরপর এক দশকের বেশি সময় কেটে গেলেও মেয়ের কষ্টের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি তিনি। আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সাত মাস আগে তিনি মেয়েকে ঢাকার উত্তরার একটি বিত্তবান পরিবারে কাজে দেন। পরিবারটি মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিবারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মেয়েটি এখন হাসপাতালের শয্যাশায়ী।


শিশুটির বাবা জানান, গত বছরের জুন মাসে তিনি মেয়েকে যে বাসায় কাজে দেন, সেটি ছিল বিমান বাংলাদেশের এমডি সাফিকুর রহমানের বাসা। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে আনতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে জানতে চাইলে সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আক্তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।


এ ঘটনায় গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ওই দিনই দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।


মেয়েটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর মেয়ের গলা, পিঠ, হাত ও পাসহ শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে। চিকিৎসকের বরাতে তিনি জানান, শিশুটির সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে এবং বর্তমানে সে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছে না।


শিশুটির পরিবার পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। বাবা আশুলিয়ার একটি হোটেলে কাজ করেন। তিনি জানান, গত বছরের জুনে বিমানের এমডির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে তাঁর পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে জানান, বাসাটিতে বাচ্চা দেখাশোনার কাজে একটি ছোট মেয়ে প্রয়োজন। পরে তিনি বাসায় গিয়ে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 


তাঁরা মেয়েটির ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি রাজি হয়ে মেয়েকে সেখানে কাজে দেন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর কয়েকবার দেখা করতে গেলে নানা অজুহাতে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি দুপুরে বিথী আক্তার ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে সন্ধ্যার দিকে মেয়েটিকে তাঁর বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র : প্রথম আলো।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ