শীতের সকাল। কাঁচাবাজারে ভিড়, সবজির ঝুড়ি ভরা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, গাজর—সবই চোখে পড়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, শীতের বাজার স্বস্তি নিয়ে এসেছে। কিন্তু দাম জিজ্ঞেস করলেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে যায়। শীত এলেও সবজির দামে গত বছরের মতো স্বস্তি ফিরেনি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী ঘুরে দেখা গেছে, আগের মাসের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে এখন ফুলকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুন কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম শুনে ক্রেতারা হতাশ। তারা আশা করেছিলেন এই সময় দামের আরও কমতি হবে।
ক্রেতারা জানান, এক বছর আগেও একই সবজি কম দামে পাওয়া যেত। এবার শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমেও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। রামপুরা বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শেফালী আক্তার বলেন, “শীত এলেই ভাবি সবজির দামে স্বস্তি পাব। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। বাজারে সবজি আছে, কিনতেও দাম বেশি।”
বিক্রেতাদের মতে, দামের স্থবিরতার মূল কারণ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম বলেন, মাঠে সবজি আছে, কিন্তু কৃষকের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত বাজারে পড়ে। এছাড়া পরিবহন ও আড়ত খরচ—শ্রমিক মজুরি, ট্রাক ভাড়া ও আড়তের কমিশন—ও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফলন ভালো হলেও সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে মাঠ পর্যায়ে কম দামের সুফল ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছায় না। কৃষক কম দামে বিক্রি করলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে শীত মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত দরপতন দেখা যাচ্ছে না।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ক্রেতারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে শীতের মৌসুমে বাজারে সবজির রঙ-বেরঙের উপস্থিতি চোখে পড়লেও দামের হিসেবে স্বস্তি এখনও অধরা। শীতের সবজি কিনতে গেলে হিসাব কষতেই হচ্ছে বেশি, ফলে স্বস্তির অপেক্ষা শেষ হয়নি। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন ঢাকা মেইলকে বলেন, “নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেশি। শীতেও সবজির বাজারে প্রত্যাশিত দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা সৎ না হলে ক্রেতারা ঠকতেই থাকবে।”

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শীতের সকাল। কাঁচাবাজারে ভিড়, সবজির ঝুড়ি ভরা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, গাজর—সবই চোখে পড়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, শীতের বাজার স্বস্তি নিয়ে এসেছে। কিন্তু দাম জিজ্ঞেস করলেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে যায়। শীত এলেও সবজির দামে গত বছরের মতো স্বস্তি ফিরেনি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী ঘুরে দেখা গেছে, আগের মাসের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে এখন ফুলকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুন কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম শুনে ক্রেতারা হতাশ। তারা আশা করেছিলেন এই সময় দামের আরও কমতি হবে।
ক্রেতারা জানান, এক বছর আগেও একই সবজি কম দামে পাওয়া যেত। এবার শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমেও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। রামপুরা বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শেফালী আক্তার বলেন, “শীত এলেই ভাবি সবজির দামে স্বস্তি পাব। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। বাজারে সবজি আছে, কিনতেও দাম বেশি।”
বিক্রেতাদের মতে, দামের স্থবিরতার মূল কারণ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম বলেন, মাঠে সবজি আছে, কিন্তু কৃষকের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত বাজারে পড়ে। এছাড়া পরিবহন ও আড়ত খরচ—শ্রমিক মজুরি, ট্রাক ভাড়া ও আড়তের কমিশন—ও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফলন ভালো হলেও সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে মাঠ পর্যায়ে কম দামের সুফল ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছায় না। কৃষক কম দামে বিক্রি করলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে শীত মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত দরপতন দেখা যাচ্ছে না।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ক্রেতারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে শীতের মৌসুমে বাজারে সবজির রঙ-বেরঙের উপস্থিতি চোখে পড়লেও দামের হিসেবে স্বস্তি এখনও অধরা। শীতের সবজি কিনতে গেলে হিসাব কষতেই হচ্ছে বেশি, ফলে স্বস্তির অপেক্ষা শেষ হয়নি। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন ঢাকা মেইলকে বলেন, “নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেশি। শীতেও সবজির বাজারে প্রত্যাশিত দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা সৎ না হলে ক্রেতারা ঠকতেই থাকবে।”

আপনার মতামত লিখুন