ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’: এই তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত এবং নতুন শর্ত



যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’: এই তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত এবং নতুন শর্ত
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে, যার নাম “ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম”। এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও শর্তভিত্তিক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার অস্থায়ী ভ্রমণকারীদের জন্য এই নতুন নীতিটি চালু করেছে মূলত নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য ভিসা পাওয়ার আগে আবেদনকারীকে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশও এই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে) করার প্রবণতা কমানো এবং ভিসার শর্ত পালনে আবেদনকারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

এই প্রোগ্রামটি মূলত B-1 (ব্যবসায়িক) এবং B-2 (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নয়, বরং যেসব আবেদনকারীকে কনস্যুলার অফিসার ওভারস্টে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং যাদের ভিসা অনুমোদনের যোগ্য মনে করা হবে, শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

এই পাইলট প্রোগ্রামটি ২০২৫ সালের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এবং পরে তা সম্প্রসারিত করা হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে। বাংলাদেশ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা।

ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামে আবেদনের প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তথ্য প্রকাশ করেছে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা সরাসরি পরিশোধের লিংকসহ বন্ড জমার নির্দেশনা দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে, বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

এই কর্মসূচির আওতায় ইস্যু হওয়া ভিসা সাধারণত সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সাধারণত সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়।

বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে। ঠিক কত টাকা জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলেন— যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা ও সময়মতো দেশে ফেরা— তাহলে বন্ডের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতে, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা শর্ত ভঙ্গের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ভিসা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও নিয়ন্ত্রিত করা এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি প্রণয়নের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতেই এই পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন বিষয় হলো— ভিসা সাক্ষাৎকারের আগেই বন্ড দিতে হবে না। কেবল ভিসা সাক্ষাৎকারের পর আবেদন যোগ্য বিবেচিত হলে তবেই বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এটি একটি সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হওয়ায় ভবিষ্যতে এর ফলাফল পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রোগ্রামটি স্থায়ী করতে পারে, আরও দেশে সম্প্রসারণ করতে পারে অথবা নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’: এই তালিকায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত এবং নতুন শর্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে, যার নাম “ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম”। এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও শর্তভিত্তিক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার অস্থায়ী ভ্রমণকারীদের জন্য এই নতুন নীতিটি চালু করেছে মূলত নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য ভিসা পাওয়ার আগে আবেদনকারীকে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশও এই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে) করার প্রবণতা কমানো এবং ভিসার শর্ত পালনে আবেদনকারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

এই প্রোগ্রামটি মূলত B-1 (ব্যবসায়িক) এবং B-2 (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নয়, বরং যেসব আবেদনকারীকে কনস্যুলার অফিসার ওভারস্টে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং যাদের ভিসা অনুমোদনের যোগ্য মনে করা হবে, শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

এই পাইলট প্রোগ্রামটি ২০২৫ সালের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এবং পরে তা সম্প্রসারিত করা হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে। বাংলাদেশ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা।

ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামে আবেদনের প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তথ্য প্রকাশ করেছে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা সরাসরি পরিশোধের লিংকসহ বন্ড জমার নির্দেশনা দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে, বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

এই কর্মসূচির আওতায় ইস্যু হওয়া ভিসা সাধারণত সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি এবং একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সাধারণত সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়।

বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে। ঠিক কত টাকা জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলেন— যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা ও সময়মতো দেশে ফেরা— তাহলে বন্ডের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতে, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা শর্ত ভঙ্গের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ভিসা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও নিয়ন্ত্রিত করা এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি প্রণয়নের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতেই এই পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন বিষয় হলো— ভিসা সাক্ষাৎকারের আগেই বন্ড দিতে হবে না। কেবল ভিসা সাক্ষাৎকারের পর আবেদন যোগ্য বিবেচিত হলে তবেই বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এটি একটি সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হওয়ায় ভবিষ্যতে এর ফলাফল পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রোগ্রামটি স্থায়ী করতে পারে, আরও দেশে সম্প্রসারণ করতে পারে অথবা নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ