ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ‘ভিসা বন্ড’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ‘ভিসা বন্ড’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র


ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জানায়, অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেবে। এই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রোগ্রাম কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যে শর্তগুলো প্রযোজ্য হবে, তা হলো

ভিসার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।

সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে।

নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান করেন (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা।

বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা প্রদানের আগে গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, ভিসাধারীরা অনুমোদিত সময়সীমা মেনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান করে। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এই পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ‘ভিসা বন্ড’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জানায়, অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেবে। এই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রোগ্রাম কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যে শর্তগুলো প্রযোজ্য হবে, তা হলো

ভিসার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।

সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে।

নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান করেন (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা।

বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা প্রদানের আগে গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, ভিসাধারীরা অনুমোদিত সময়সীমা মেনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান করে। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এই পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ