ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মামলা প্রত্যাহারের বিধান

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা আইনগতভাবে দায়ের করা যাবে না।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এই প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটেই এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন গ্রহণের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। সেক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।

তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ অবস্থায় আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়।


অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা আইনগতভাবে দায়ের করা যাবে না।


এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।


অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এই প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটেই এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।


অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন গ্রহণের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। সেক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।


অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।


তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ অবস্থায় আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।


অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ