ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এখনও চলছে ছাপার ও বিতরণের কাজ

শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই


ডেস্ক রিপোর্ট :
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই
চিত্র : সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়েও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পহেলা জানুয়ারিতে বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ২৫ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও এটি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বই পৌঁছাতে এখনও দেরি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনও বই ছাপা এবং বিতরণের কাজ চলছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে যাবে।

বই মুদ্রণ ও বিতরণের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা ৯৯.৭৮ শতাংশ। ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। অর্থাৎ এখনও বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১.২ শতাংশ। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বিতরণ শতভাগ হলেও মাধ্যমিক স্তরে এখনও ঘাটতি রয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি বই নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি। উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৯৮.৩৩ শতাংশ, ফলে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।

শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯ কপির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৪৩ কপি বিতরণ বাকি। সপ্তম শ্রেণির ৬ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৯০০ কপির মধ্যে ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ কপি বাকি। অষ্টম শ্রেণিতে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৮ কপির মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৫ কপি এবং নবম শ্রেণিতে ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৪ কপির মধ্যে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ কপি এখনও বিতরণ বাকি।

বিতরণে দেরির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রেস নির্বাচন, কাগজ সরবরাহ ও মুদ্রণ সূচি নির্ধারণে বিলম্ব। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রেসকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি এ নিয়ে দরপত্র বাতিল করেছে এবং নতুন রিটেন্ডারের মাধ্যমে বই ছাপা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এনসিটিবি বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানিয়েছেন, “চলতি মাসের মধ্যে সব বই বিতরণ সম্ভব হবে। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অধিকাংশ বই ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, “আগামী বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বই সময়মতো পৌঁছানোর জন্য আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং সময়ভিত্তিক কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়েও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পহেলা জানুয়ারিতে বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ২৫ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও এটি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বই পৌঁছাতে এখনও দেরি রয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনও বই ছাপা এবং বিতরণের কাজ চলছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে যাবে।


বই মুদ্রণ ও বিতরণের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা ৯৯.৭৮ শতাংশ। ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। অর্থাৎ এখনও বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১.২ শতাংশ। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বিতরণ শতভাগ হলেও মাধ্যমিক স্তরে এখনও ঘাটতি রয়েছে।


ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি বই নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি। উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৯৮.৩৩ শতাংশ, ফলে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।


শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯ কপির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৪৩ কপি বিতরণ বাকি। সপ্তম শ্রেণির ৬ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৯০০ কপির মধ্যে ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ কপি বাকি। অষ্টম শ্রেণিতে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৮ কপির মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৫ কপি এবং নবম শ্রেণিতে ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৪ কপির মধ্যে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ কপি এখনও বিতরণ বাকি।


বিতরণে দেরির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রেস নির্বাচন, কাগজ সরবরাহ ও মুদ্রণ সূচি নির্ধারণে বিলম্ব। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রেসকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি এ নিয়ে দরপত্র বাতিল করেছে এবং নতুন রিটেন্ডারের মাধ্যমে বই ছাপা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


এনসিটিবি বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানিয়েছেন, “চলতি মাসের মধ্যে সব বই বিতরণ সম্ভব হবে। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অধিকাংশ বই ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, “আগামী বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বই সময়মতো পৌঁছানোর জন্য আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং সময়ভিত্তিক কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ