আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া নিবন্ধিত ৫টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তত চারটি দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছে। নতুন নিবন্ধিত হওয়ার ফলে সময় স্বল্পতা, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং জোটবদ্ধ রাজনীতির কৌশলগত মারপ্যাঁচে তারা ৩০০ আসনের বিপরীতে এমন প্রতীকী অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই চারটি রাজনৈতিক দল হলো—বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি।
সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি। তফসিল ঘোষণার ১২ দিন পর নিবন্ধনের সনদ হাতে পাওয়ায় দলটি গুছিয়ে ওঠার সময় পায়নি। দলটির চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন জানান, ২৬ জন প্রার্থী প্রস্তুত থাকলেও শেষ সময়ের কড়াকড়িতে তারা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। এমনকি চেয়ারম্যান নিজে ঢাকা-৬ আসনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে পৌঁছানোর কারণে মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে খুলনা-১ আসনে সুব্রত মণ্ডলই এখন দলের একমাত্র আশার আলো।
একসময়ের সক্রিয় দল বাংলাদেশ ন্যাপের লক্ষ্য ছিল ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া। তবে নির্বাচন জমার মোটা অঙ্কের জামানত এবং প্রচারণার ব্যয় সামলাতে না পেরে তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। দলের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা কেবল দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির আসনটিকে (নীলফামারী-১) অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
১০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কেবল তাদের পঞ্চগড়-২ আসনটি হাতছাড়া করেনি, বরং জোটের স্বার্থে বড় ছাড় দিয়েছে। দলের মুখপাত্র রাশেদ প্রধান জানান, তিনি নিজে পঞ্চগড় থেকে নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও জোটের শক্তিশালী শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার কারণে আরও একটি নিশ্চিত আসন ছাড়তে হয়েছে তাদের।
একই চিত্র দেখা গেছে গণতন্ত্রী পার্টিতেও। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে দলটির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া। দলের এই ক্ষুদ্র অবস্থানের পেছনে শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত কোনো কারণ থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সাবেক ইসি সচিব জেসমিন তুলি এই প্রবণতাকে দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সক্ষমতার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বড় দলগুলোর মতো বিস্তৃত নেটওয়ার্ক না থাকায় ছোট দলগুলো প্রতীকীভাবে নির্বাচনে টিকে থাকার জন্য নির্দিষ্ট আসনে মনোযোগ দেয়, যা অতীতেও দেখা গেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া নিবন্ধিত ৫টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তত চারটি দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছে। নতুন নিবন্ধিত হওয়ার ফলে সময় স্বল্পতা, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং জোটবদ্ধ রাজনীতির কৌশলগত মারপ্যাঁচে তারা ৩০০ আসনের বিপরীতে এমন প্রতীকী অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই চারটি রাজনৈতিক দল হলো—বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি।
সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি। তফসিল ঘোষণার ১২ দিন পর নিবন্ধনের সনদ হাতে পাওয়ায় দলটি গুছিয়ে ওঠার সময় পায়নি। দলটির চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন জানান, ২৬ জন প্রার্থী প্রস্তুত থাকলেও শেষ সময়ের কড়াকড়িতে তারা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। এমনকি চেয়ারম্যান নিজে ঢাকা-৬ আসনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে পৌঁছানোর কারণে মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে খুলনা-১ আসনে সুব্রত মণ্ডলই এখন দলের একমাত্র আশার আলো।
একসময়ের সক্রিয় দল বাংলাদেশ ন্যাপের লক্ষ্য ছিল ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া। তবে নির্বাচন জমার মোটা অঙ্কের জামানত এবং প্রচারণার ব্যয় সামলাতে না পেরে তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। দলের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা কেবল দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির আসনটিকে (নীলফামারী-১) অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
১০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কেবল তাদের পঞ্চগড়-২ আসনটি হাতছাড়া করেনি, বরং জোটের স্বার্থে বড় ছাড় দিয়েছে। দলের মুখপাত্র রাশেদ প্রধান জানান, তিনি নিজে পঞ্চগড় থেকে নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও জোটের শক্তিশালী শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার কারণে আরও একটি নিশ্চিত আসন ছাড়তে হয়েছে তাদের।
একই চিত্র দেখা গেছে গণতন্ত্রী পার্টিতেও। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে দলটির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া। দলের এই ক্ষুদ্র অবস্থানের পেছনে শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত কোনো কারণ থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সাবেক ইসি সচিব জেসমিন তুলি এই প্রবণতাকে দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সক্ষমতার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বড় দলগুলোর মতো বিস্তৃত নেটওয়ার্ক না থাকায় ছোট দলগুলো প্রতীকীভাবে নির্বাচনে টিকে থাকার জন্য নির্দিষ্ট আসনে মনোযোগ দেয়, যা অতীতেও দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন